মানববন্ধনে ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের ফাঁসি দেওয়ার দায়ে জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচারও দাবি করেছেন তাঁদের পরিবার। অন্যথায় নিজেরাই কবর অপসারণের হুঁশিয়ারি দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ওই সময় বিদ্রোহ দমনের নামে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সামরিক বাহিনীর প্রায় দেড় হাজার সদস্যকে অন্যায়ভাবে ফাঁসিসহ নানা দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ইতিহাসে এটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে জিয়াউর রহমান এই হত্যাকাণ্ড চালান বলে উল্লেখ করেন সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের স্বজনেরা।

স্বজনেরা বলেন, কাউকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে, কাউকে কোনো ধরনের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে জিয়াউর রহমান দণ্ড কার্যকর শুরু করেন। বেছে বেছে মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকদেরই ফাঁসি কার্যকর করেন সবার আগে। এত দিন পরও স্বজনের কবরের সন্ধান না পাওয়ায় ক্ষোভ জানান দণ্ড কার্যকর হওয়া মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকদের স্ত্রী–সন্তানেরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্বামী–বাবা হত্যার বিচারের পাশাপাশি এমন হত্যাকাণ্ডের অপরাধে জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার দাবি করেন স্বজনেরা।

দণ্ড কার্যকর হওয়া মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকদের স্বজনেরা বলেন, তথাকথিত বিদ্রোহ দমনের নামে জিয়াউর রহমান এক দিনের সামরিক আদালতে বিচার করে সেই রাতেই ফাঁসি সম্পন্ন করতেন ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রংপুর, যশোর ও বগুড়া কেন্দ্রীয় কারাগারে। রাতের আঁধারে কারফিউ দিয়ে ফাঁসি কার্যকর করা হতো। কোনো ধরনের ধর্মীয় আচার–অনুষ্ঠান ছাড়াই লাশগুলো ঢাকার আজিমপুর কবরস্থান ও কুমিল্লার টিক্কারচর কবরস্থানে মাটিচাপা দেওয়া হতো। সেনাশাসক জেনারেল জিয়াউর রহমানের নির্দেশে গঠিত বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনালের কথিত বিচারে ফাঁসি হওয়া ১৯৩ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্তু ওই ঘটনার জেরে মৃত মানুষের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৪৩, তেমনি কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন সেনা ও বিমানবাহিনীর আড়াই হাজার সদস্য।

মানববন্ধনে উপস্থিত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের চর হিসেবে কাজ করেছেন। জিয়া মূলত ভারত গিয়েছিলের পাকিস্তানের চর হিসেবে। সে কারণে যখনই সুযোগ পেয়েছেন, তখনই পাকিস্তানিদের নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মমভাবে হত্যা করেছেন। অনেক মানুষকে বিচারের নামে প্রহসন করে হত্যা করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, জিয়া যে দল গড়ে তুলেছিল, তার ব্যানারে রাজনীতি করার কারও অধিকার নেই। জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। দল দুটি স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠন হিসেবে পরিচিত। বিএনপিকে বিলুপ্তি করার দাবি জানান বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী।

নিহত কর্নেল নাজমুল হুদার সন্তান সংসদ সদস্য নাহিদা ইজাহার খান বলেন, ‘৪৭ বছর আগে জিয়া নির্মমভাবে আমাদের বাবাকে হত্যা করেছে। একজন খুনির মরদেহ সংসদ ভবনের মতো পবিত্র এলাকায় থাকতে পারে না। জিয়াসহ সব যুদ্ধাপরাধীর কবর এখান থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।’ পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তা ও খুনিদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল হেলাল মোর্শেদ খান (বীর বিক্রম), শহীদ মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফের মেয়ে মাহজাবিন খালেদসহ ১৯৭৭ সালে গণফাঁসির শিকার সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা।