‘পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে’ উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা (গণতন্ত্র মঞ্চ) এই গণবিরোধী সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে দিতে চাই। ক্ষমতায় গেলে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা হবে। বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা হবে।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, দেশের জনগণ না খেয়ে মরলেও এই সরকারের কিচ্ছু আসে-যায় না। বরং সরকারের চুরি-দুর্নীতির বিচার চাইলেই সরকার পুলিশ ও দলীয় গুন্ডা বাহিনী দিয়ে বিরোধী শক্তিকে দমনে ব্যস্ত হয়ে উঠছে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বললেন, রিজার্ভ চিবিয়ে খাওয়া হয়নি। রিজার্ভ চিবিয়ে খাওয়া যায় না, কিন্তু ডলার ঠিকই পাচার করা হয়েছে। সরকার লুটপাট, ডলার পাচার ও রিজার্ভ চুরি করে দেশকে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। বিদ্যুৎ ও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে।’

জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, পুলিশ, মালিক সমিতি, দলীয় গুন্ডা বাহিনী দিয়ে গুলি, মামলা-হামলা-গ্রেপ্তার ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এসবের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি পণ্ড করার চেষ্টা আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা ও পরাজয়। এগুলো সরকারের নার্ভাস হওয়ার প্রকাশ।

গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক বলেন, ইভিএম দিয়ে এই সরকার ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো আরেকটি জালিয়াতির ভোটের স্বপ্ন দেখছে। এ দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের ওই স্বপ্ন ধুলায় মিশিয়ে দেবে। প্রশাসনেও হাওয়া ঘুরে গেছে মন্তব্য করে গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক বলেন, জনগণের পক্ষে থাকলে কাউকে চাকরি হারাতে হবে না। তবে সভা-সমাবেশ করার সাংবিধানিক আধিকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে চরম খেসারত দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে কামাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চ ন্যায্যতা, সামাজিক মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচারের সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়ছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে এই লুটেরা সরকারের বিচার করা হবে। সরকারকে উচ্ছেদ ছাড়া সেই বিনির্মাণ সম্ভব নয়।

গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জুলহাস নাইনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাংগঠনিক সমন্বয়ক ইমরান ইমন, গণসংহতি আন্দোলনের ঢাকা জেলা আহ্বায়ক বাচ্চু ভূঁইয়া প্রমুখ।