আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের একটি বক্তব্য উল্লেখ গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়াকে টুস করে পানিতে ফেলে দেওয়া— এটা একান্তই হিউমার। অর্থাৎ, শেখ হাসিনা ঠাট্টাও জানেন। ঠাট্টা খালেদা জিয়ার সঙ্গে করেন, কিন্তু জাতির সামনে যে ঠাট্টা ১৪ বছর যাবৎ করছেন, এর হিসাব জনগণ একদিন নিতেই পারে।’

বিদ্যুতের খাতের শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ২৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের গল্প ছয় মাস আগেও শুনেছি। প্রয়োজন আমাদের ১১ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু এখন ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎও নেই। এই হলো বিদ্যুতের অবস্থা। হারিকেন— তাও খুঁজে পাওয়া যায় না। এই সরকারের উন্নতি, ঘরে ঘরে মোমবাতি।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, কিছুদিন আগে বলেছিলাম এই সরকার জনগণের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে। বিদ্যুৎ নেই, কিন্তু টাকা গেল কই? বিদ্যুতের জন্য যত টাকা ঋণ করেছেন, সেই টাকা তো জনগণকে পরিশোধ করতে হবে। কেন আমরা এই ঋণ পরিশোধ করব। কাকে কাকে কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্রজেক্ট দিয়েছেন, এই কোম্পানিগুলো কী পরিমাণ টাকা ঋণ নিয়েছে, কী পরিমাণ জ্বালানি দেওয়া হয়েছে এবং তারা কী পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে— তার হিসাবটা দিন। এই টাকার হিসাব জনগণের নেওয়ার অধিকার রয়েছে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘শুনতে পাচ্ছি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার জন্য সপ্তাহে তিন দিন স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখবে, জেনারেটর চলতে পারবে না, ডিজেলের খুচরা বাজারে দেবেন না। তাহলে মানুষ কী করে বাঁচবে? শিল্প-কলকারখানা কীভাবে চলবে? কৃষি, পোশাক খাতসহ সামগ্রিক উৎপাদনে কী পরিমাণ ঘাটতি হবে? তাহলে দেশ কীভাবে চলবে?’

গয়েশ্বর রায় বলেন, অর্থমন্ত্রী একজন আদমব্যাপারী। তিনি বলেছেন, আইএমএফের কাছে কোনো টাকা চাই না। আবার ভেতরে-ভেতরে আইএমএফের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে। আবার আইএমএফ বলেছে কোন প্রজেক্টে কত টাকা খরচের হিসাব চেয়েছে। যে ঋণ দিবে, তারা কী হিসাব নিবে না?

নির্বাচন কমিশনকে ঠুঁটো জগন্নাথ মন্তব্য করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, নির্বাচন কমিশন সকালে এক কথা, বিকেলে এক কথা বলে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দশ্য করে তিনি বলেন, ‘কে নির্বাচনে আসবে, কে নির্বাচনে আসবে না, এই কথা বলা আপনি কে? রাজনৈতিক মীমাংসা হবে রাজনৈতিকভাবে। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সরকার চিন্তা করবে কীভাবে জনগণের সঙ্গে তারা মীমাংসা করবে, কীভাবে জনগণের ভোটাধিকার ফেরত দিবে। এটা ঠুঁটো জগন্নাথ নির্বাচন কমিশনের কাজ না।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান, বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশারফ, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক প্রমুখ।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন