সবাই প্রধানমন্ত্রীকে বক্তব্য শোনাতে চান, সংসদে চিফ হুইপ

সংসদে চিফ হুইপ নূরুল ইসলামফাইল ছবি

সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতিতে উষ্মা প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সংসদ অধিবেশনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় নেই। সংসদ সদস্যরা (এমপি) তাঁদের এলাকার কথা বলেন, মন্ত্রীদের শোনা উচিত।

জবাবে সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম জানান, সংসদে অনুপস্থিত থাকা মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে আছেন। প্রধানমন্ত্রী সংসদের প্রাণ। সবাই ওনাকে বক্তব্য শোনাতে চান। সে জন্য অনেক বক্তা পাওয়া যায় না।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে এ কথা বলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম (মনি)। বেলা তিনটার পর স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। কিন্তু দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী সংসদের কার্যক্রমে কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে বক্তব্যের জন্য যথাসময়ে পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে কয়েক দফায় সংসদে স্পিকার, চিফ হুইপ ও সদস্যরা কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম দেরিতে আসায় নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পরে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ দুটি নোটিশ উপস্থাপন করে নিষ্পত্তি করতে হয়।

মাগরিবের বিরতির কিছু আগে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিতে নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের নাম ঘোষণা করেন স্পিকার। তিনি লুৎফুজ্জামানকে বক্তব্যের জন্য ১০ মিনিট সময় দেন। এ সময় লুৎফুজ্জামান দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমি তো আজকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য সময় চাইনি।’

এ পর্যায়ে স্পিকার চিফ হুইপ নূরুল ইসলামের উদ্দেশে একটি তালিকা দেখিয়ে বলেন, ‘তালিকা তো আপনারাই দেন। প্রথমে ছাপানো, পরে হাতে লেখা। কিন্তু বক্তা তো পাওয়া যায় না।’

তখন চিফ হুইপ বলেন, ‘আজকে যাঁদের তালিকা দিয়েছি, সবার সঙ্গে কমবেশি কথা হয়েছে। হুইপেরা সবার সঙ্গে কথা বলেছেন। কথা বলেই তালিকা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সবাই অবগত। একটা সমস্যা হচ্ছে— আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত নেই। প্রকৃতপক্ষে প্রধানমন্ত্রী সংসদের প্রাণ। সবাই ওনাকে বক্তব্য শোনাতে চান। এ জন্য অনেক বক্তা পাওয়া যায় না। বাবর সাহেবের সঙ্গে মনে হয় আমাদের হুইপ নুরুদ্দিন সাহেব (মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু) কথা বলেছেন, কথা বলেই নামটা দেওয়া হয়েছে।’

এ পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘বক্তাদের বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করব, যাতে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) শুনতে পান কী বলেছেন আপনারা।’

পরে লুৎফুজ্জামান বাবরের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ‘আপনি আজকে বলতে চাচ্ছেন না?’

জবাবে লুৎফুজ্জামান বলেন, ‘আমি বলতে চাচ্ছি না। এ কথাটাও সঠিক না, মাননীয় হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সঙ্গে এ ব্যাপারে কোনো কথাই হয়নি।’

পরে চিফ হুইপের উদ্দেশে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রথম সারিতে মাত্র তিনজন মন্ত্রীকে দেখতে পাচ্ছি। অনেক সদস্য তাঁদের এলাকার কথা বলেন, এগুলো মন্ত্রীদের শোনা প্রয়োজন। আপনি আমাদের পক্ষ থেকে মন্ত্রীদের অনুরোধ করবেন, তাঁরা যেন সংসদে এসে সংসদ সদস্যদের কথাবার্তা শোনেন।’

এ সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে স্পিকারের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।

ফ্লোর নিয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘আজকে এখানে মন্ত্রীদের না থাকার কারণ সংশ্লিষ্টরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে আছেন। যে কয়েকজন নাই, তাঁরা ওখানে আছেন এবং রাষ্ট্রীয় কাজে আছেন। অন্যদিকে দ্বিতীয়, তৃতীয় সারিতে সব মন্ত্রীরা কমবেশি উপস্থিত আছেন, প্রায় ৩০ জনের মতো মন্ত্রী এখন উপস্থিত আছেন। মাননীয় স্পিকার, আপনার বক্তব্য তাঁদের কাছে পৌঁছে দেব। আমি গুনেছি ৩০ জনের বেশি আছেন। তাঁরা শুনতে চান, শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

পরে স্পিকার বলেন, অধিকাংশই (সংসদ সদস্য) স্বাস্থ্যমন্ত্রী, যোগাযোগমন্ত্রীর উদ্দেশে কথা বলেন; তাঁদের রাস্তাঘাট, হাসপাতালগুলোর বেহাল অবস্থা বলেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সংসদে অধিবেশনে যোগ দেওয়া। এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছুই নেই।’