চার প্রতিষ্ঠানের এক জরিপ দিচ্ছে বিএনপি–জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে একটি জরিপ। এতে দেখানো হচ্ছে, ভোটারদের ৩৪ শতাংশের মতো বিএনপিকে ভোট দিতে চায়, ৩৩ শতাংশ ভোট দিতে চায় জামায়াতকে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রজেকশন বিডি, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি), জাগরণ ফাউন্ডেশন এবং ন্যারাটিভ নামে চারটি প্রতিষ্ঠান যৌথ উদ্যোগে এ জনমত জরিপ চালায়। ‘প্রি-ইলেকশন পালস: ইন-ডেপথ অ্যানালাইসিস অব দ্য বাংলাদেশি ইলেকটোরেট’ শীর্ষক জরিপ ফলাফল আজ সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
তাদের জরিপে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিতে ইচ্ছুক ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার। ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট দিতে চায় জামায়াতকে। জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ৭ দশমিক ১ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ৩ দশমিক ১ শতাংশ ভোট দিতে চায়। অন্যান্য দলকে ভোট দিতে চায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার। কাকে ভোট দেবে, তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ১৭ শতাংশ ভোটার।
জরিপের ফলাফল তুলে ধরে আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম শাহীন পরিসংখ্যানগতভাবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনার কথা বলেন।
ভোটারদের পছন্দের দল বাছাইয়ের বিষয়টিও উঠে আসে এই জরিপে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতার বিষয়টিকে সামনে রাখছেন জরিপে অংশ নেওয়া ৭২ দশমিক ১ শতাংশ। যাঁরা জামায়াতকে ভোট দিতে চাইছেন, তাঁরা দলটির সততা ও পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির কথা বলেছেন। জামায়াতকে সমর্থনের জন্য ৪৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ কারণ দেখিয়েছেন কম দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়া এবং ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ কারণ দেখিয়েছেন সততা। এনসিপিকে সমর্থনকারীদের ৩৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ ‘জুলাই বিপ্লবে ভূমিকা’র বিষয়টি মাথায় রেখেছেন।
জরিপে অংশ নেওয়া যে ১৭ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন, তাঁদের মধ্যে ৩০ দশমিক ১৭ শতাংশ কোনো রাজনৈতিক দলকেই বিশ্বাস করা পারছেন না বলে জানিয়েছেন। ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো মতামত দেননি।
এই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের যাঁরা বিএনপিকে ভোট দেবেন, তাঁরা অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন; যাঁরা জামায়াতকে ভোট দেবেন, তাঁরা গুরুত্ব দিচ্ছেন কম দুর্নীতিগ্রস্ততা ও সততাকে।
এই ভোটাররাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন, বলেন শফিউল আলম।
গত বছরের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই জরিপটি হয়। এতে মতামত নেওয়া হয় বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার ২৯৫টি সংসদীয় আসনের ২২ হাজার ১৭৪ জন ভোটারের। জরিপের নমুনা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থান, শহর-গ্রাম ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নিশ্চিত করতে ‘স্ট্রার্টিফায়েড স্যাম্পলিং ডিজাইন’ অনুসরণ করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
জরিপের ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অধ্যাপক মুশতাক হোসেন খান, সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) আমসা আমিন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেসের ডিন এ কে এম ওয়ারেসুল করিম, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক শিব্বির আহমেদ ও জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ওমর নাসিফ আব্দুল্লাহ।