বিএনপির মহাসচিব বলেন, এ জন্য যত কিছু কারসাজি করা দরকার, তারা (বর্তমান সরকার) করেছে। কখনো ১৫৪ জনকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ঘোষণা করে দেওয়া, কখনো যে তারিখে ভোট তার আগের রাত্রে ভোট নিয়ে নেওয়া এবং সমস্ত রাষ্ট্রব্যবস্থাকে তাদের পক্ষে ঘোষণা দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা করা। এভাবে কাঠামোটাকে তারা নষ্ট করেছে।

‘জনতার ঢেউ শুরু হয়েছে’

অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিটা জিনিসের উত্থান-পতন আছে। যে ঢেউ শুরু হয়েছে উত্তাল তরঙ্গের মতো, সমুদ্রের মতো, তারা (ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ) ভেসে যাবে। কারণ, তাদের সঙ্গে জনগণ নেই, জনগণ থাকবে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের শেষ কথা, ভোটের অধিকারকে ফিরে পাওয়ার জন্য আমরা যে ১০ দফা দিয়েছি, সেই ১০ দফার প্রথমেই এ সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। সংসদকে বিলুপ্ত করতে হবে। এ সংসদের কোনো মূল্য নেই এবং একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে। সেই সরকারের অধীন নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নতুন নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে আমরা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে আমরা জয়ী হব।’

‘হতাশ হবেন না’

দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘অনেকের কথায় হতাশার একটু ছাপ খুঁজে পাই। কেন হতাশ হবেন? আমরা তো সাকসেসফুল হচ্ছি, প্রতিটা স্টেপে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আজকে আমি জেলে গেছি, আমি একা জেলে যাইনি তো। হাজার হাজার আমাদের নেতা-কর্মী জেলে গেছেন। তাদের মুখে আমি এতটুকু হতাশার ছাপ দেখিনি।’

একটা অসম লড়াইয়ের মধ্যে রয়েছেন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের প্রতিপক্ষ যারা, তারা প্রবল প্রতাপশালী, ক্ষমতাশালী। তাদের হাতে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র, তাদের হাতে বন্দুক, তাদের হাতে পিস্তল-গ্রেনেড। অবলীলাক্রমে তারা সেগুলো মারে, উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়।’

এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘নয়াপল্টনের অফিসের সামনে মকবুল হোসেনকে (স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা) প্রকাশ্যে গুলি করে মারল। উল্টো মামলা দিল আমাদের সাড়ে চার শ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। আমরা আসামি না থাকলেও নাকি হুকুমদাতা, নির্দেশদাতা। তাই মূল বিষয়টা হচ্ছে, আমাদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে হবে, আমাদের জনগণকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, আমাদের রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে হবে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে টিকিয়ে রাখতে হবে।’

‘গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে’

গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে তাদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘সংবাদপত্রের যাঁরা মালিক, তাঁদের তো বিজনেস হাউস আছে। তাঁদের ব্যবসা করতে হয়, তাঁদের ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়। তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে এবং প্রতিটা মিডিয়া হাউসের সঙ্গে একজন করে গোয়েন্দা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। কী লিখবেন, হেডলাইন কোনটা যাবে, কোনটা প্রাধান্য দেওয়া হবে, কোনটা প্রাধান্য দেওয়া হবে না—সবকিছু নির্দেশ করে দেওয়া হয়।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আফটারঅল মানুষকে তো চাকরি করে খেতে হবে। সাংবাদিকেরা চাকরি করেন, ওটাই তো তাঁদের আয়-উপার্জন, তাঁদের তো আকাশ থেকে টাকা এসে পড়ে না, তাঁদের চাকরি করে খেতে হয়। ওই ঝুঁকি নিতে পারেন না সব সময় যে চাকরি গেলেও আপনার ছোট কথাটা লিখবেন, সব সময় পারেন না। তারপরও তাঁরা লিখছেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা, ১০০টা মামলা, হত্যা মামলা। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার এখন পর্যন্ত বিচার হয় নাই। এ রকম অসংখ্য সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে। আলোকচিত্রী সাংবাদিক শহীদুল আলমের ওপর নির্যাতনের কথা জানেন। সাংবাদিক রোজিনার নির্যাতনের কথা জানেন। প্রতি পদে পদে নির্যাতন হচ্ছেন। তারপরও সাংবাদিকেরা এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জনগণের কথা বলছেন।’

বই প্রত্যাহারের দাবি

অনুষ্ঠানে পাঠ্যপুস্তকে বিতর্কিত বিষয় যুক্ত করা নিয়েও কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘পাঠ্যপুস্তকে যে ধরনের বিষয়গুলো এসেছে এবং শিক্ষকদের যে অনুশীলন বই দেওয়া হয়েছে, এটা আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের জীবন, আমাদের ধর্মবোধের বিরুদ্ধে। এটা আমরা কোনোমতেই মেনে নিতে পারি না।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, “এটা পরিবর্তন করা হবে, ইস্যু করবেন না।” ইস্যু তো বানিয়ে দিয়েছেন আপনারা। এ দেশের মানুষের সব চিন্তা-চেতনা, ভাবনা, তার সংস্কৃতি, তার ঐতিহ্য—সবকিছু অপমান করে বই চাপিয়েছেন। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি এসব বই প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সদস্যসচিব কাদের গনি চৌধুরী এ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আবদুল লতিফ মাসুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল আলম, অধ্যাপক কামরুল আহসান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাম হাফিজ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনিসুর রহমান ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ প্রমুখ।