কিছু আসনে ‘টার্গেট’ করে ফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে: নাহিদ ইসলাম
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সময় সুনির্দিষ্ট কিছু আসনকে ‘টার্গেট’ করে ফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ভোট গ্রহণ একটা পর্যায় পর্যন্ত সুষ্ঠু হলেও ফলাফল ঘোষণার সময় কারচুপি করা হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমাদের অবস্থান খুবই সুস্পষ্ট। এই নির্বাচনে সুস্পষ্টভাবে ফলাফলে কারচুপি হয়েছে। ভোট একটা পর্যায় পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে হয়েছিল। আমরা সেটাকে স্বাগত জানিয়েছিলাম। কিন্তু ফলাফল যখন ঘোষণা করার সময় হয়েছে, ওই সময়টাতে স্পেসিফিক (সুনির্দিষ্ট) অনেকগুলো আসনকে টার্গেট করে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে।’
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘আপনারা দেখেছেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হকের ঢাকা-১৩...সেই আসন...ঢাকা-৮ আসন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের আসন—এ রকম স্পেসিফিক কয়েকটা আসনকে টার্গেট করে সেটার ফলাফল পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রগুলোকে দখল করে, জোর করে প্রশাসনকে ব্যবহার করে সে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে।’
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যেই প্ল্যান বা পরিকল্পনার কথা আমরা শুনেছি, সেই প্ল্যানের একটা বাস্তবায়ন বা স্বরূপ কিন্তু এই নির্বাচনে আমরা দেখতে পাচ্ছি। ফলাফল কারচুপি করে পুরোনো আমলে আওয়ামী লীগ যেভাবে নির্বাচন করেছে, সে ধরনের চেষ্টা আমরা যাদের ভেতর দেখতে পাচ্ছি, তারা কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, কী রকম দেশ পরিচালনা করবে, সেটা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন এসেছে।’
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘নির্বাচনের পরদিনই যারা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর হামলা, সারা দেশে নির্বিচার বাড়িঘরে হামলা, আগুন লাগানোর হুমকি এবং এলাকাছাড়া করতেছে, তাদের কাছে এই দেশের জনগণ কীভাবে নিরাপদ থাকবে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন এসেছে।’
নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের রক্ষায় ১১ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শফিকুর রহমান (জামায়াতের আমির) স্পষ্টভাবে বলেছেন, এটার জন্য রাজপথে নামার প্রয়োজন হলে আমরা সেটার প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ, এই দেশের মানুষকে, যারা ১১ দলের পক্ষে নির্বাচনে কাজ করেছে, নেতা-কর্মী-সমর্থক, তাদের হেফাজত করা বা রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের।’
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জনগণ এত প্রতিকূলতার মধ্যেও ১১ দলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ১১ দলের পক্ষে অনেকে বিজয়ী হয়েছেন। অনেক কারচুপি করেও তাঁদের বিজয় আটকানো যায়নি।
গণভোট প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আপনারা দেখবেন যে গণভোটে কত পার্সেন্ট ভোট পড়েছে?... ৬০ প্লাস (৬৮ শতাংশ) ভোট পড়েছে। এই নির্বাচনে কিন্তু সুস্পষ্ট দুইটা পক্ষ ছিল। একটা সংস্কার ও পরিবর্তনের পক্ষ—যারা গণতন্ত্র চায়; চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, লুটপাট বন্ধ করতে চায় এবং বিচার ও সংস্কার চায়। আরেকটি পক্ষ যারা পুরোনো বন্দোবস্ত ও পুরোনো রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করে, বাহাত্তরের সংবিধান চেয়েছে, ঋণখেলাপিদের প্রশ্রয় দিয়েছে এবং লুটপাট-দুর্নীতির সেই একই রাজনীতি করতে চায়।’
যে ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে, তারা ১১ দলের পক্ষেও ভোট দিয়েছে দাবি করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শেষ মুহূর্তে ১০ শতাংশের মতো ভোট কারচুপি করা হয়েছে। না হলে এই পুরো ভোটটা ১১ দলের পক্ষেই আসত। শেষ মুহূর্তে ১১ দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়ে ক্ষমতা নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।’
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে সুস্পষ্টভাবে অভিযোগ জানানো হবে উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘প্রার্থীরা জানাবেন নির্বাচন কমিশন সেখানে কী ভূমিকা পালন করছে, তাদের অবস্থান কী। এর ওপর নির্ভর করবে নির্বাচন নিয়ে আমাদের চূড়ান্ত অবস্থান।’