খোঁড়া যুক্তি দেওয়া হচ্ছে যে এগুলো সংবিধানে নেই: বদিউল আলম মজুমদার
দেশের বর্তমান বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, বহির্বিশ্বে সৃষ্ট সংকটের পাশাপাশি দেশের ভেতরেও অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঘনীভূত করছে।
সরকারের বিরুদ্ধে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে গড়িমসি করার অভিযোগ করেন বদিউল আলম মজুমদার। গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খোঁড়া যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, এগুলো সংবিধানে নেই। জনগণের অনুমোদিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা উচিত।’ অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার সময়ও সংবিধানে এর উল্লেখ ছিল না, তবু রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে তা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।
‘অধ্যাদেশ বাতিল এবং গণভোট অস্বীকারের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের যুগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এ কথা বলেন বদিউল আলম মজুমদার। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এ আলোচনার আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির মতো বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে এবং তা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে সৃষ্ট রাজনৈতিক বিভাজন ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
অন্তর্বর্তী সরকার আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলো নিয়ে সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতই সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হয় এবং সংখ্যালঘু মতামত (নোট অব ডিসেন্ট) গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পায় না।
গণভোটের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করা বা জনকল্যাণমূলক অধ্যাদেশ বাতিলের চেষ্টা চলমান সংকটকে আরও তীব্র করবে বলে সতর্ক করেন বদিউল আলম মজুমদার। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ভয়াবহ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। অনৈক্য নয়, ঐক্যের মাধ্যমেই সংকট উত্তরণ সম্ভব।’
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অতীতে তরুণদের নেতৃত্বে যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের ঐক্য প্রয়োজন।
দেশ আবারও পুরোনো পথে হাঁটছে কি না, এমন প্রশ্ন তোলেন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার। সরকারকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ ও তরুণসমাজ অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখছে, যা ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হকের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, উন্নয়নকর্মী রুবি আমাতুল্লাহ, আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, ভয়েস ফর রিফর্মের উদ্যোক্তা ও সংগঠক ফাহিম মাসরুর, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাবেদ রাসিন, মনিরা শারমিন, সালেহউদ্দিন সিফাত, কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন, যুগ্ম সদস্যসচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান।