সাহস, দেশপ্রেম ও নীতিনিষ্ঠার প্রতীক ছিলেন খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়াফাইল ছবি

সাহসী নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের জন্য মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দীর্ঘ কারাবাস ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও কখনো প্রতিহিংসামূলক মনোভাব প্রকাশ করেননি তিনি। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও নীতিনিষ্ঠাকে সম্মান করার পাশাপাশি রুচিশীলতা, মার্জিত নেতৃত্ব ও উদার দৃষ্টিভঙ্গির জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনন্য খালেদা জিয়া। তাঁর অবদান দেশের ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

খালেদা জিয়া স্মরণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শুক্রবার বিকেলে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। এই শোকসভায় রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষক, সম্পাদক, কূটনীতিক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই শোকসভায় বাংলাদেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নে খালেদা জিয়ার নানামুখী ভূমিকার কথা তুলে ধরেন বিশিষ্টজনেরা।

শোকসভায় খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সভামঞ্চের সামনে দর্শকসারিতে বসেন। তাঁদের পাশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাসসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা বসেছিলেন।

বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় যোগ দেন পুত্র বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্য ও বিশিষ্ট নাগরিকেরা। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়
ছবি: সাজিদ হোসেন

শোকসভা ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, র‍্যাব, কোস্টগার্ড, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর মারা যান। তাঁর জানাজা ও দাফন হয় ৩১ ডিসেম্বর। তাঁর জানাজা পরিণত হয়েছিল জনতার মহাসমুদ্রে।

এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। আর সেই শক্তিকে রূপান্তর করবেন কীভাবে? ভোট দিয়ে, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে। সুতরাং দয়া করে আপনারা ইলেকশন বানচাল হতে দেবেন না।
—শফিক রেহমান, প্রবীণ সাংবাদিক

শোকসভায় প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান বলেন, খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বড় গুণ ছিল সাহস ও দেশপ্রেম। তিনি দেশকে ভালোবাসতেন।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমান
ছবি: বাংলাভিশনের সৌজন্যে

শফিক রেহমান বলেন, ‘আজকের এই শোকসভা অর্থবহ করতে হলে এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। আর সেই শক্তিকে রূপান্তর করবেন কীভাবে? ভোট দিয়ে, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে। সুতরাং দয়া করে আপনারা ইলেকশন বানচাল হতে দেবেন না, কোনো একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় অথবা একটি সহিংসতার ঘটনায় গোটা জাতির নির্বাচনের আশা নষ্ট করবেন না।’

শফিক রেহমান বলেন, যে করেই হোক ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন যেন হয়। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রার্থীদের কাছ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, বেকার সমস্যা সমাধান এবং ব্যাংকের আমানতকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বাস নিতে হবে।

শোকসভা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, এই জনপদের মানুষ খালেদা জিয়াকে অনন্তকাল ধরে স্মরণ রাখবেন। তাঁর দেশপ্রেম, সাহসিকতা, সততা, নিষ্ঠা, ত্যাগ ও অত্যাচার সহ্য করার অপরিসীম ক্ষমতা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি এই দেশকে ভালোবাসতেন।

খালেদা জিয়ার তিনটি অমর উক্তি মানুষ চিরকাল মনে রাখবেন বলে জানান মাহবুব উল্লাহ। এর প্রথমটি হচ্ছে, ‘দেশের বাইরে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নেই।’ দ্বিতীয়টি হচ্ছে, ‘আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা। ওদের হাতে বন্দীর শৃঙ্খল।’ তৃতীয়টি হচ্ছে, ‘দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই। দেশই আমার শেষ ঠিকানা।’

অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, এই মন্ত্রগুলো ধারণ করলেই খালেদা জিয়ার দল এবং এই দেশ রক্ষা পাবে। না হলে রক্ষা পাবে না।

অসাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল

খালেদা জিয়া জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতেন বলে উল্লেখ করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘জাতির এই সন্ধিক্ষণে যখন তাঁর উপস্থিতি, পরামর্শ, দিকনির্দেশনা সম্ভবত সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন উনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। উনি হয়তো চাইতেন, আজকের এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা আমরা সকলে একত্রিতভাবে, নীতিনিষ্ঠভাবে, দেশমাতৃকার প্রতি আমাদের ভালোবাসা থেকে যৌথভাবে মোকাবেলা করি। উনি হয়তো সেটাই চাইতেন।’

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ারের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অধ্যাপক আসিফ নজরুল
ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেলের সৌজন্যে

শোকসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কলাম লেখক আসিফ নজরুল বলেন, খালেদা জিয়ার সততা, দৃঢ়প্রতিজ্ঞা, আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম ও রুচির প্রকাশ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অম্লান। বাংলাদেশের ভালো থাকা নিশ্চিত করতে হলে তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া ও অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘বেগম জিয়ার অসাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি সৎ, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, আত্মত্যাগী ও দেশপ্রেমিক ছিলেন। বাংলাদেশকে ভালো রাখতে হলে তাঁকে ইন্টারনালাইজ (নিজের মধ্যে ধারণ করা) করতে হবে।’

অর্থনীতির উন্নতির জন্য অবদান সুদূরপ্রসারী

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান শোকসভায় বলেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, আইনের শাসন, বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তার নীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিল খালেদা জিয়ার সরকার। প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার, মেয়েদের পড়াশোনায় সহায়তা ও দরিদ্র পরিবারকে নতুন আশার আলো দেখিয়েছিলেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান
ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেলের সৌজন্যে

বাংলাদেশ ছাড়া আমার কোনো ঘর নেই—খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্য উদ্ধৃত করে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এই কথাটা আমাদের সবাইকে মনে করিয়ে দেয় যে আমাদের ভবিষ্যৎ এই দেশের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। দেশের স্থিতিশীলতা, মানুষের আস্থা যতটা বাড়বে, আমাদের সবার সুযোগ ততটা বাড়বে। ব্যবসায়িক সমাজও এমন একটি বাংলাদেশ চায়, যেখানে নিয়মকানুন শক্ত হবে, বিশ্বাস তৈরি হবে।’

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তব্য দেন আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ও ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান
ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেলের সৌজন্যে

শোকসভায় ট্রান্সকম গ্রুপের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা এবং অর্থনীতির উন্নতির জন্য খালেদা জিয়ার অবদান ছিল সুদূরপ্রসারী। নব্বইয়ের দশকে খালেদা জিয়ার বাজারমুখী নীতির ফলে বেসরকারি খাত, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গতি আসে।

খালেদা জিয়ার আপসহীন নীতির কথা উল্লেখ করে সিমিন রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার সময় ভ্যাট পলিসি, আর্থিক খাতের সংস্কার, প্রাইভেটাইজেশন বোর্ড এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনীতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী হয়। প্রবাসী আয়, রপ্তানি বৃদ্ধি উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করা হয়।

তৈরি পোশাক শিল্পে খালেদা জিয়ার অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন সিমিন রহমান। তিনি বলেন, একইভাবে ১৯৯৪ সালে ওষুধের মূল্যনীতির ফলে ওষুধশিল্পে গুণগত উন্নয়ন, গবেষণা ও বিনিয়োগ বেড়েছিল। যার ফলে বাংলাদেশ আজ ওষুধে নিজের ওপর শতভাগ নির্ভরশীল। এটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদাহরণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মার্জিত নেতৃত্ব দেশের রাজনীতিতে বিরল

খালেদা জিয়া স্বাধীন সাংবাদিকতাকে মনেপ্রাণে শ্রদ্ধা করতেন বলে উল্লেখ করেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। তিনি বলেন, ‘ওনার সহনশীলতা, ভিন্নমত গ্রহণের ক্ষমতা এবং সমালোচনা গ্রহণের সক্ষমতা ছিল অসাধারণ। ওনার উদারতা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের দৃষ্টিভঙ্গি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তব্য দেন ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর
ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেলের সৌজন্যে

নিউ এজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, জনগণের সত্যিকারের নেত্রী খালেদা জিয়া। তাঁর রুচিশীলতা ও পরিমিতিবোধ বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্যেও উনি কখনো প্রকাশ্যে নিজের বেদনা বা ক্ষোভ ব্যক্ত করেননি।

আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মানুষের হৃদয়ে ছিলেন এবং হৃদয়ে থাকার কারণেই তাঁর জানাজায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত কান্না দেখা গেছে। দেশপ্রেম এবং সংগ্রামী জীবনের কারণে খালেদা জিয়া জনপ্রিয় ছিলেন।

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, খালেদা জিয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর মার্জিত নেতৃত্ব, যা দেশের রাজনীতিতে বিরল।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ইচ্ছাকৃত অবহেলা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে লিভারের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। তিনি বিষয়টি আইনগতভাবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানান।

প্রতিহিংসামূলক প্রতিক্রিয়া দেখাননি

শোকসভায় সভাপতির বক্তব্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি জে আর মোদাচ্ছির হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া কঠিন সময়ে ধৈর্য ও আত্মমর্যাদা প্রদর্শন করেছেন। দীর্ঘ সময় কারাবাসে থাকার পরও তিনি প্রতিহিংসামূলক প্রতিক্রিয়া দেখাননি। ধ্বংস নয়, প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসা ও শান্তির সমাজ গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন খালেদা জিয়া।

বেলা আড়াইটার পর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শোকসভা শুরু হয়। এরপর খালেদা জিয়া স্মরণে শোকবার্তা পাঠ করেন শোকসভা আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন।

সভায় ১৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ার‍ম্যান এস এম এ ফায়েজ, সাবেক কূটনীতিক আনোয়ার হাশিম, অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, রাঙামাটির চাকমা সার্কেলের প্রধান দেবাশীষ রায়, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, ডিজেবলড পিপলস ইন্টারন্যাশনালের (ডিপিআই) সভাপতি আব্দুস সাত্তার দুলাল, লেখক ফাহাম আব্দুস সালাম প্রমুখ। শোকসভার এই আয়োজন উপস্থাপনা করেন সাংবাদিক আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন।

শোকসভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা ছিলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন।

শোকসভায় অংশ নেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা। এ ছাড়া প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ বিভিন্ন পেশার শীর্ষ ব্যক্তিরা শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন।

শোকসভা শেষ হয় খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে।