স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, হাসপাতাল ও স্টুডিওতে হামলাকারীরা বিএনপির নেতা-কর্মী দাবি করে গ্রেপ্তার চাইল জামায়াত
রাজধানীতে একটি হাসপাতাল ও একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বিএনপির নেতা–কর্মী বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে দলটি।
রোববার এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুর ১–এ নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়োজিত একটি চিকিৎসাকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিয়ে তা দখলে নেওয়া ন্যক্কারজনক দখলবাজির ঘটনা।
জামায়াত সেক্রেটারি দাবি করেন, গণমাধ্যমের খবরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দিয়ে দখলে নেওয়ার সঙ্গে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার কথা এসেছে। এ ঘটনায় মূল হোতাসহ জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা পুনরুদ্ধারে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, অবকাঠামো সংস্কার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
শনিবার রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জুলাই যোদ্ধা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায়ও বিএনপির নেতা–কর্মীদের সম্পৃক্ততা আছে বলে দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, নিউগিনি প্রপার্টিজে অবস্থিত স্টুডিওটিতে রামদা ও কুড়াল নিয়ে হামলা চালান বিএনপির নেতা–কর্মীরা। তাঁরা রামদা ও কুড়াল নিয়ে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে ও মূল্যবান সম্পদ লুটপাট করে নিয়ে যান।
এই হামলার পেছনে জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের কথা গণমাধ্যমের খবরে এসেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন গোলাম পরওয়ার। এ ঘটনারও নিন্দা জানান তিনি।
এ ছাড়া শনিবার বিকেলে নয়াপল্টনের ইসলামী ব্যাংক স্পেশালাইজড অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভাঙচুর ও স্টাফদের মারধরের অভিযোগ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তাঁর দাবি, বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি অংশ হাসপাতালটির গ্লাস ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং রিসেপশনের কর্মকর্তাদের মারধর করে। রাতভর মব তৈরি করে কথিত স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদল নেতা লিয়ন ও ফরহাদের নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
এসব ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরমভাবে ভেঙে পড়েছে।
বিএনপির নেতা–কর্মীরা দখলবাজি ও চাঁদাবাজি করতে গিয়ে জনগণের সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে হামলা চালাচ্ছেন। তাঁরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে জনগণের সম্পদকে দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন, যা ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিবৃতিতে বেসরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা ও দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।