বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে খেলবেন? ইনশা আল্লাহ পারবেন না। ২০০১ সালের পুনরাবৃত্তি হবে না। সেই দুঃশাসন, সেই লুটপাটের হাওয়া ভবন, সাম্প্রদায়িকতা, নারী নির্যাতন, গুম, খুনের বাংলাদেশে মানুষ আর ফিরে যাবে না।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনারা সকালে ঘুম থেকে উঠেই চোখ কচলাতে কচলাতে কয়েকজন গুলশান-বারিধারায় যান। নাশতা করেন, আবার রাতের বেলায় খাবার খেতে খেতে বিদেশিদের কাছে নালিশ করেন। বড় বড় কথা বলেন, লজ্জা করে না? আপনাদের লজ্জা থাকা উচিত। ভারতে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর ছুটির দিন ভোরবেলা গিয়ে ফুল-মিষ্টি হাতে দূতাবাসের সামনে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ নালিশ পার্টি (বিএনপি)।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো বিদেশি শক্তি কাউকে ক্ষমতায় বসাতে পারে না। দেশের জনগণ পারে। আমাদের নাকি ভয়ে মাথা খারাপ হয়ে গেছে! তারা আমাদের লোকের ভয় দেখায়। লোক দেখতে চান? আমাদের সম্মেলন দেখতে আসুন। রাজপথের ভয় দেখাচ্ছেন? ডিসেম্বর মাসে ১০ লাখ লোক নিয়ে বসবেন কোথায়?’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ফখরুল সাহেব, আপনি তো বড় বড় কথা বলেন! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৎ সাহস আছে, তিনি সত্য কথা বলেন। বৈশ্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেছেন, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা আছে। এটা তিনি পুরো দুনিয়া নিয়ে বলেছেন, যে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক। তিনি অন্যায় কী করেছেন? দেশে নাকি এখন দুর্ভিক্ষ হচ্ছে! কোথাও একটা লোক মরেছে?’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘খুনিরা শিশু রাসেলকেও রেহাই দেয়নি। বঙ্গবন্ধুর মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানারও ছাড় পাওয়ার কথা ছিল না। একটা পরিবারকে ধ্বংস করার এই অ্যাজেন্ডার “মাস্টারমাইন্ড” ছিলেন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। তাঁর মদদ না পেলে খুনিদের দুঃসাহস ছিল না জাতির পিতাকে সপরিবার হত্যা করার। জিয়া খুনিদের পুরস্কৃতও করেন। খুনিদের নিরাপদে বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসে চাকরিও দেন।’

আওয়ামী লীগের যেসব নেতা-কর্মী অপকর্ম করছেন, এ সময় তাঁদের ভালো হওয়ার পরামর্শ দেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘দলকে সুনামের ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। আওয়ামী লীগের নামে অপকর্ম করবেন না। যাঁরাই অপকর্ম করছেন, তাঁদের এসিআর (বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন) কিন্তু নেত্রীর কাছে জমা রয়েছে। যাঁরা অপকর্ম ও “গডফাদারগিরি” করে দুর্নাম বয়ে আনছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তাঁরা কিছুতেই পাবেন না। এটা নেত্রীর পরিষ্কার নির্দেশ।’

আলোচনা সভায় সভাপতি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী। দলটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী সভা সঞ্চালনা করেন। এতে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল হালিম।