গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটদাতাদের নিয়ে ফোরাম করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে: এবি পার্টির চেয়ারম্যান

‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান, সনদ ও গণভোটের রায়; রাজবন্দীদের অভিজ্ঞতা ও জবানবন্দি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। মধুর ক্যানটিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১০ জুন ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘গণভোটে হ্যাঁ ফোরাম’ গঠনের কথা জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭০ ভাগ ভোটার জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটদাতাদের ঐক্যবদ্ধ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে।

আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এবি পার্টির চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান, সনদ ও গণভোটের রায়; রাজবন্দীদের অভিজ্ঞতা ও জবানবন্দি’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ।

মজিবুর রহমান বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। আমরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, এ স্বপ্ন কোনোভাবেই বৃথা যাবে না। আওয়ামী লীগের নিপীড়ন আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল। এখন ফ্যাসিবাদীরা নেই বলে আমরা কেউ ক্ষমতায়, কেউ বিরোধী দলে।’

সরকারের সমালোচনা করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হচ্ছে যাঁরা সরকারে আছেন, তাঁরা মূল লক্ষ্য থেকে সরে যাচ্ছেন। আবার তাঁরা মনে করছেন, আমরা কেবল তাঁদের খারাপ দিক দেখছি, অযথা সমলোচনা করছি।’এই মতপার্থক্যকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন আমাদের প্রধান চাওয়া।’ তিনি সরকারকে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আহ্বান জানান।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে স্বৈরাচারী সরকার ডিজিএফআইয়ের মাধ্যমে আমাকে ও হাসনাতকে (কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য) তুলে নিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগ এবং হুমকি দেয়। জোর করে নেওয়া বক্তব্য কাট–কপি করে মিডিয়াগুলোতে (সংবাদমাধ্যম) প্রচার করা হয়। তবে বাংলাদেশপন্থী কিছু সাংবাদিক আমাদের মূল বক্তব্য আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোতে তুলে ধরেন।’

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও সংগ্রামের প্রতীক বলেও উল্লেখ করেন এনসিপির এই নেতা।

এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া গণ–অভ্যুত্থানের লক্ষ্য পূরণ হবে না। বিএনপি আগের স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে। কেবল জুলাই সনদই পারে বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে। সরকার হিসেবে বিএনপিকেই জনগণের ভোট ও মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স বলেন, শহীদ, আহত ও রাজবন্দীদের আত্মত্যাগকে শুধু স্মরণ করলেই চলবে না, তাঁদের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মাসুদ রানা জুয়েল বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ইতিহাস কোনোভাবেই বিস্মৃত হওয়ার নয়। এখনো জুলাইয়ের রাজবন্দীদের স্বীকৃতি ও তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আকিব হাসান, জুলাই রেভোল্যুশন অ্যালায়েন্সের সহসভাপতি আহমেদ সামরান, জুলাই রাজবন্দী অ্যালায়েন্সের মুখ্য সংগঠক অর্ণব হুসাইন, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সিরাজুম মনিরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামসুজ্জামান অমি প্রমুখ।