আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে থাকবে: তারেক রহমান

বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল–মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ী ১০ জন তরুণ–তরুণীর সঙ্গে একান্ত আলাপে তারেক রহমান। সঙ্গে ছিলেন মেয়ে জাইমা রহমান। ঢাকা। ২৪ জানুয়ারিছবি: বিএনপির মিডিয়া সেলের ভিডিও থেকে

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ—এই দুটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর মতে, এই দুটি ক্ষেত্র ঠিকভাবে সামাল দিতে পারলে দেশের অনেক সমস্যার সমাধান অনেকাংশে হয়ে যাবে।

বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল–মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ী ১০ জন তরুণ–তরুণীর সঙ্গে একান্ত আলাপে নিজের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান। এ আলোচনায় তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানও ছিলেন। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্কে এ অনুষ্ঠান হয়।

অনুষ্ঠানে বিজয়ীরা বিভিন্ন বিষয়ে কখনো তারেক রহমানকে প্রশ্ন করেন, কখনো তাঁর মতামত জানতে চান। বিজয়ীদের সঙ্গে আলাপের এ অনুষ্ঠানে কোনো মঞ্চ ছিল না। পার্কের উত্তর–পূর্ব দিকে লেকের ওপর কাঠের পাটাতনের উন্মুক্ত পরিসরে ১২টি চেয়ার রাখা হয়। এ আয়োজনে কোনো সাউন্ড সিস্টেমও ব্যবহার করা হয়নি।

অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, প্রথমে একটা বিষয় নিশ্চিত করতে হবে, সেটি আইনশৃঙ্খলা। সবাই যেন রাস্তায় নিরাপদে থাকতে পারেন, এটা নিশ্চিত করতে হবে। আর দুর্নীতি, যেভাবেই হোক, এটাকে ‘অ্যাড্রেস’ (দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া) করতে হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন রকম দুর্নীতি আছে, বিভিন্ন পর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে। এই দুটো (আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ) বিষয়কে যদি একটু ভালো করে অ্যাড্রেস করা যায়, অন্য সমস্যাগুলো অনেকাংশে সমাধান হয়ে আসবে।

বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল–মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ী ১০ জন তরুণ–তরুণীর সঙ্গে একান্ত আলাপে তারেক রহমান। সঙ্গে ছিলেন মেয়ে জাইমা রহমান। ঢাকা। ২৪ জানুয়ারি
ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেলের সৌজন্যে

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিজের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বলেও জানান তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে ঢাকার পূর্বাচলে গণসংবর্ধনায় তিনি বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’। তবে সেদিন তাঁর ‘প্ল্যান’ (পরিকল্পনা) সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। এরপর অবশ্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সমাবেশে বিক্ষিপ্তভাবে নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে বলছেন তিনি। যার মধ্যে ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, ২৫ কোটি গাছ রোপণ করাসহ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেছেন তিনি।

যানজট প্রসঙ্গ

রাজধানীর যানজট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, তিন কোটির বেশি মানুষের এই শহরে যানজটের পেছনে সড়কের নকশা, গণপরিবহন ও সব সুযোগ-সুবিধা ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়াসহ নানা কারণ রয়েছে। এর সমাধান হিসেবে মনোরেল চালু, রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলোর সঙ্গে রেল যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা, রাজধানীর ভেতরে ছোট ছোট স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলাসহ কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলেন তিনি।

মেট্রোরেল প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এটি ব্যয়বহুল। বিকল্প হিসেবে মনোরেল–ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে, যা সহজে বসানো ও প্রয়োজনে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব এবং যাত্রীদের খরচও কম হতে পারে।

আনন্দ নিয়ে পড়ালেখা

শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, লেখাপড়াকে সহজ ও আনন্দমুখর করতে চান তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘যখন ইন্টারেস্ট তৈরি করা যাবে, তখন তারা (শিশুরা) আনন্দ নিয়ে পড়ালেখা করবে।’

এ প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, স্কুলে ভূগোলের মতো বিষয়ে ১০০ নম্বর থেকে ৩০ নম্বর খেলাধুলায় যুক্ত করার চিন্তা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যে খেলায় আগ্রহী, সেই খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই পাস করার সুযোগ থাকবে।

সরকার গঠন করতে পারলে শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে একটি ‘টিমের’ আওতায় এনে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান।

গাছে বেঁধে একটি কুকুরকে পিটিয়ে হত্যার ভিডিও ফেসবুকে দেখেছেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এভাবে কেন কুকুর পিটিয়ে মেরে ফেলতে হবে। বিষয়টি তাঁকে ভাবিয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থায় পশুপাখি লালন–পালনের বিষয়টি যুক্ত করার চিন্তা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

  • সবাই যেন রাস্তায় নিরাপদে থাকতে পারেন, এটা নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি।

  • লেখাপড়াকে সহজ ও আনন্দমুখর করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গ

ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, স্বামীহারা নারী, সিঙ্গেল মাদার কিংবা নানা সামাজিক সমস্যায় থাকা নারীরাও এই কার্ডের আওতায় আসবেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের সোশ্যাল সেফটির (সামাজিক সুরক্ষা) আওতায় বর্তমানে ১৩৮টি প্রজেক্ট চালু আছে। কিন্তু এগুলো ঠিকভাবে সমন্বিত নয়। একজন তিনটা সাপোর্ট (সুবিধা) পাচ্ছে, আরেকজন একটাও পাচ্ছে না। আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এটাকে অর্গানাইজ (সমন্বিত) করতে চাইছি। এটাকে আমরা ইউনিভার্সাল (সর্বজনীন) রাখতে চাই।’

‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’

বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল–মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ী ১০ জন তরুণ–তরুণীর সঙ্গে একান্ত আলাপে তারেক রহমান। সঙ্গে ছিলেন মেয়ে জাইমা রহমান। ঢাকা। ২৪ জানুয়ারি
ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেলের সৌজন্যে

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে গত ডিসেম্বর মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রিল–মেকিং’ প্রতিযোগিতা আয়োজন করে বিএনপি। ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১০ জন গতকাল তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপচারিতার সুযোগ পান। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা এক মিনিটের রিলের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে নিজেদের ভাবনা, প্রত্যাশা ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত বছরের ১৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় প্রায় ২ হাজার ৩০০ প্রতিযোগী অংশ নেন।

রিল–মেকিং প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১০ জন হলেন তৌফিকুর রহমান, ফাতিহা আয়াত, রাফায়েতুল আহমেদ, শেখ রিফাদ মাহমুদ, মো. ইসরাফিল, সাজেদুর রহমান, শেখ মো. ইকতারুল ইসলাম, জারিন নাজনীন, রিফাত হাসান ও রামেসা আনজুম।

অনলাইনে নারীদের হয়রানি

ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের হয়রানি বন্ধে কী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা তোলেন রিল–মেকিং প্রতিযোগিতার একজন বিজয়ী। এ নিয়ে আলাপের এক পর্যায়ে তারেক রহমান বলেন, সাইবার বুলিং ও অ্যাসিডের ভয়াবহতা সম্পর্কে যদি শুরু থেকেই শিশুদের ধারণা দেওয়া যায়, তাহলে একটা পর্যায়ে এসে তারা বুঝতে পারবে কোনটা ন্যায়, কোনটা অন্যায়।

এ আলাপের এক সময় তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্ত হন জাইমা রহমানও। তিনিও বলেন, ছোটবেলা থেকেই যদি শিশুদের শেখানো যায় যে কোনটা সঠিক আর কোনটা সঠিক নয়, তাহলে এটি (যেকোনো ধরনের হয়রানি–নিপীড়ন) অনেক কমে আসবে। এ ছাড়া ডিজিটাল এডুকেশনও (অনলাইনে কী করা যাবে, কী করা যাবে না) দরকার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে আলোচনায় জাইমা রহমান বলেন, ফেসবুকসহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যক্রম (স্থানীয় কার্যালয়) বাংলাদেশে নেই। এসব অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে এ দেশে নিয়ে আসতে হবে।