বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘চারদিকে তাকালে চোর, চুরি; চারদিকে তাকালে গুন্ডামি; চারদিকে তাকালে মারামারি। তাঁরা এত কিছু করছেন, এক দিনমজুরকে গুলি করে তাঁর নাড়িভুঁড়ি বের করে দিতে পারছেন। আর আপনাদের (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) সামনে দিয়ে জঙ্গি উধাও হয়ে যাচ্ছে। বুঝতেই পারেন তাদের (সরকার) গভার্ন্যান্স। কোন জায়গায় তারা গভার্ন্যান্সকে নিয়ে এসেছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশ এক গভীর সংকটে পড়ে গেছে, একেবারে খাদে এসে গেছে। একদিকে অর্থনৈতিক সংকট, আরেক দিকে রাজনৈতিক সংকট। এর সমাধান না করলে এ দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে। আমরা এখনো মনে করি, এসব সন্ত্রাস, অত্যাচার-নির্যাতন বাদ দিয়ে তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং দেশে সত্যিকার অর্থে একটা অন্তর্বর্তীকালীন কেয়ারটেকার সরকারের কাছে ক্ষমতা দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। অন্যথায় সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা আমরা দেখি না।’

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশ ও জাতিকে গভীর সংকটে ফেলেছে বলে আমি মনে করি। এটা একটা ক্রিটিক্যাল মোমেন্ট। যদি নির্বাচন ঠিকমতো না হয়, নির্বাচনে যদি জনপ্রতিনিধি সঠিকভাবে নির্বাচিত না হয়, সে দেশ কিভাবে চলবে?’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা পাশের দেশগুলোর দিকে দেখেন। ভারতের কি কম সমস্যা আছে? ভারতে নির্বাচন হচ্ছে, সবাই সে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। নেপালে একেবারে বিপরীতমুখী রাজনৈতিক দলগুলো, সোশ্যালিস্ট, রেভল্যুশনারি, লিবারেল ডেমোক্রেন্সি—ইলেকশন করছে এবং সবাই নির্বাচনে যাচ্ছে। সেখানে নির্বাচনে যাওয়ার পরিবেশ আছে। পাকিস্তানের মতো দেশে তারা নির্বাচনে যাচ্ছে এবং নির্বাচনপ্রক্রিয়ার প্রতি তাদের (রাজনৈতিক দল) বিশ্বাস আছে, আস্থা আছে। দুর্ভাগ্যজনক আমরা সেটা করতে পারি নাই। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে আওয়ামী লীগ এই সংকট সৃষ্টি করেছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সিরাজগঞ্জে শুরু থেকে, অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে একটা ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করা হয়েছে। এর মূল টার্গেট হচ্ছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও তাঁর স্ত্রী। যেহেতু ২০০৮ সালে টুকু সাহেব নির্বাচন করতে পারেননি, নির্বাচন করেছেন ভাবী। সে জন্য প্রতিহিংসার ব্যাপার আছে। এটা তারা কন্টিনিউ করে গেছে।’

সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদ তাঁর ওপর সন্ত্রাসী হামলার বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ১৮ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল রেলস্টেশন বাজার এলাকায় আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী বিভাগীয় সম্মেলনের লিফলেট বিতরণের এক অনুষ্ঠানে তিনিসহ নেতা-কর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করে।

রুমানা মাহমুদের স্বামী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাসায় বিএনপির মহাসচিবের সঙ্গে মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন ও সদস্য শায়রুল কবির খানও যান।