কতবার সংসদ সদস্য হওয়া যাবে, তা সীমাবদ্ধ করার পক্ষে নওশাদ জমির

সংসদ অধিবেশনে নওশাদ জমিরছবি: ভিডিও থেকে

দ্বিতীয়বার নির্বাচন করে প্রথমবার সংসদে আসা নওশাদ জমির চাইছেন, কেউ যেন তিন–চার বারের বেশি সংসদ সদস্য হতে না পারেন, এমন নিয়ম হোক।

সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এই প্রস্তাব রাখেন পঞ্চগড়–১ আসনের বিএনপির এই সংসদ সদস্য। বেলা তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

নওশাদ জমির বলেন, ’প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) বলেছেন, তিনি দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে চান না। মাননীয় স্পিকার, আপনার মাধ্যমে আমি একটি প্রস্তাব রাখতে চাই, এটি আমার ব্যক্তিগত অভিমত, আমার দল কিছু বলেনি; তা হলো কোনো এমপিরও দুই, তিন বা চারবারের বেশি থাকা উচিত নয়।’

কেন তা চাইছেন, তার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এর কারণ হলো, আমরা ২০ কোটি লোকের দেশ, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।’

সাবেক স্পিকার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের ছেলে ২০১৮ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পঞ্চগড়ের ওই আসনে ১৯৭৯ সালে প্রথম সংসদ সদস্য ছিলেন তাঁর বাবা জমিরউদ্দিন সরকার। তিনি মোট পাঁচবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। অষ্টম জাতীয় সংসদে স্পিকার ছিলেন তিনি।

জুলাই সনদে সংবিধান সংস্কারের যে প্রস্তাব রয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে এক ব্যক্তির দুই বারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ আর থাকবে না। তবে কারও বারবার সংসদ সদস্য হওয়ার পথটি অবারিতই থাকছে।

সংবিধান সংস্কার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নওশাদ জমির বলেন, ‘র্সবশেষ সংবিধানের ব্যাপারে আমার একটা ব্যক্তিগত কথা বলতে হচ্ছে, যা আমি ছাত্রাবস্থা থেকেই বলে আসছি। সেটি হলো বাংলাদেশের সংবিধান বাংলাদেশের মানুষ দ্বারা রচিত হওয়া দরকার। আপনি যদি আমাদের সংবিধানের সপ্তম তফসিল দেখেন, তবে দেখবেন সেখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণার ইতিহাস যেভাবে এসেছে, তাকে সঠিক করার জন্য বাংলাদেশের মানুষের দ্বারা সংবিধান রচিত হওয়া প্রয়োজন।’

সংসদ অধিবেশন কক্ষ
ছবি: ভিডিও থেকে

বিএনপির সংসদ সদস্য নওশাদ জমির বলেন, ‘১৯৭১-এর একজন যোদ্ধা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যে স্বাধীনতার ডাক, সেই ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধ করেছে।’

‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে আমরা স্বাধীনতার ঘোষক সব জায়গায় বলছি; কিন্তু আমাদের '২৪-এর যে সনদ, সেখানে কিন্তু তাঁর নামটা সেভাবে বলা হয়নি। এমনকি ২৬ মার্চে আমরা যে কাগজটা পেয়েছিলাম, সেখানেও সেই কথা বলা হয়নি। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, নতুবা ইতিহাস আমাদের ফেলে দেবে।’

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে নওশাদ জমির বলেন, ‘যে সংগ্রাম আমরা ১৫-১৬ বছর ধরে করেছি, তারা সেই সংগ্রামে একটি অগ্নু৵ৎপাত ঘটিয়েছে। তাঁদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দুটিই আছে। তাদের বলতে চাই, আমরা তোমাদের দেখতে পাচ্ছি, তোমাদের কথা শুনতে পাচ্ছি, তোমাদের হৃৎস্পন্দন অনুভব করতে পারছি। তোমরা আস্থা রাখো, আমরা চব্বিশের সনদ যেমন সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করব, তেমনি ভবিষ্যতের যে বাংলাদেশের স্বপ্ন তোমরা দেখেছ, ইনশা আল্লাহ সেই বাংলাদেশকে আমরা সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারব।’

আরও পড়ুন

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার ওপর জোর দেন নওশাদ জমির। তিনি বলেন, ‘অনেক রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এই সংসদ। এই সংসদে আমাদের প্রত্যেকেরই একটি প্রত্যয় আছে যে বাংলাদেশকে এমন একটি অবস্থায় নিয়ে যাওয়া, যেখান থেকে বাংলাদেশ যেন আর কখনোই এই স্বৈরাচার বা ফ্যাসিজম, কোনোটির মধ্যেই ইনশা আল্লাহ যাতে না পড়তে হয়।’

প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে নওশাদ জমির বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য তিনি যে অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন, সে বিষয়ে আমাদের এখানে কারও সন্দেহ নেই।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করে সংসদ সদস্য নওশাদ জমির বলেন, ‘তিনি যে আধুনিক বাংলাদেশ তৈরি করতে যাচ্ছেন, তা বোঝা যায়। আমরা কিছু হাসপাতাল নিয়ে কথা বললাম, তিনি পিপিপির (সরকারি–বেসরকারি অংশীদারত্ব) মাধ্যমে আমাদের উৎসাহিত করলেন। এই আধুনিক চিন্তাভাবনা বাংলাদেশকে আরও অনেক সামনের দিকে নিয়ে যাবে। আমরা সব সময় বলতাম, বাংলাদেশ কবে সিঙ্গাপুরের মতো হবে। আমি বলতে চাই, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সিঙ্গাপুরের মতো হওয়া নয়; বরং বাংলাদেশ যাতে সারা পৃথিবীর জন্য উদাহরণ হয়, সেভাবে এগিয়ে যাওয়া। আমি বিশ্বাস করি, আধুনিকতার প্রবক্তা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে বীজ বপন করছেন, আমরা আমাদের জীবদ্দশায় তা দেখে যেতে পারব কি না, জানি না; তবে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে বাংলাদেশ সারা পৃথিবীর জন্য একটি উদাহরণ হবে।’