ঢাকা-৯ আসনে ফুটবল প্রতীককে মানুষ অনেক উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন: তাসনিম জারা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা বলেছেন, স্বল্প সময়ে তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ফুটবলকে ভোটারদের মধ্যে পরিচিত করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমের সাহায্যে মানুষ নিজ উদ্যোগে তাঁর প্রতীক সম্পর্কে জেনে নিচ্ছেন। ফুটবল প্রতীককে মানুষ অনেক উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।
আজ রোববার দুপুরে ঢাকা-৯ আসনের সবুজবাগের বাগপাড়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচারকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তাসনিম জারা এ কথাগুলো বলেন।
তাসনিম জারা উল্লেখ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়তে মাত্র দেড় দিনে পাঁচ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের এই শর্ত এভাবে পূরণ করতে পারার বিষয়টিকে তিনি তাঁর প্রতি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।
এ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তাসনিম জারা বলেন, অনেকেই এটিকে অসম্ভব মনে করেছিলেন। শীতের মধ্যে সরাসরি মানুষের কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু মানুষ একসঙ্গে হয়ে সেটি সম্ভব করে দেখিয়েছে।
এখন নির্বাচনী প্রচারের সময় স্থানীয় ভোটারদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথা জানান এই স্বতন্ত্র প্রার্থী। আজ বাগপাড়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচার চলাকালে স্থানীয় এক ভোটার তাসনিম জারার উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা আপনাকে আশ্বাস দিচ্ছি না, এটা বাস্তব।’
বাগপাড়ার আরেক ভোটার বলেন, ‘আপনাকে (তাসনিম জারা) মোবাইলে দেখেছি। আমরা গরিব হতে পারি, কিন্তু মনটা বড়। আমরা আপনাকেই ভোট দেব। আমাদের এখানকার অনেকে বলেছে, আপনাকে ভোট দেবে।’
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ প্রসঙ্গে কথা বলেন তাসনিম জারা। তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর রাজনীতির পরিসর কিছুটা উন্মুক্ত হয়েছিল। তরুণ, নারী ও প্রবাসী অনেকেই রাজনীতিতে আগ্রহী হয়েছিলেন। তবে এখন আবার সেই জায়গা সংকুচিত হয়ে আসছে বলে তিনি মনে করেন।
তাসনিম জারার ভাষায়, ‘যে পরিবর্তনের জন্য মানুষ জীবন বাজি রেখে রাস্তায় নেমেছিল, সেই সংস্কার বাস্তবায়ন এবং অর্থ ও পেশিশক্তির বাইরে গিয়ে রাজনীতি করতে চাওয়া মানুষদের জন্য একটি কার্যকর পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।’
নিজের নির্বাচনী প্রচারের ধরন নিয়ে কথা বলেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। তিনি বলেন, মাঠে নেমে হেঁটে হেঁটে প্রচারের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁর টিম কাজ করছে। পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমেও প্রচার চলছে। দেশ-বিদেশে থাকা স্বেচ্ছাসেবকেরা নিজেদের পরিচিতজনদের মাধ্যমে এই আসনের ভোটারদের ফুটবল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
তাসনিম জারা বলেন, ‘আমরা সচেতনভাবে একটি ক্লিন ক্যাম্পেইন করছি, যেখানে মানুষের ওপরই ভরসা করছি। মানুষ সেই জায়গায় সাড়া দিচ্ছে।’
শ্রমজীবী মানুষের চাহিদার কথা তুলে ধরেন তাসনিম জারা। তিনি বলেন, রিকশাচালক, দিনমজুরসহ অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের প্রধান চাওয়া নিরাপদ পরিবেশ ও ন্যায্য আয়ের সুযোগ। তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে ন্যায্য মজুরি ও আইনি সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সংসদে গেলে এই শ্রেণির মানুষের হয়ে কথা বলার অঙ্গীকার করেন তিনি।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহের পাশাপাশি শঙ্কা আছে বলে উল্লেখ করেন তাসনিম জারা। তিনি বলেন, অনেক ভোটার নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন কি না, ভোট আগের মতো রাতেই হয়ে যাবে কি না—এ ধরনের উদ্বেগের কথা বলছেন।
তাসনিম জারা বলেন, ‘এই ভয় কাটাতে হবে, যাতে মানুষ অনেক বছর পর যে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটের দিকে তাকিয়ে আছে, সেটি বাস্তব হয়।’