ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন শুরু হয় বেলা সোয়া দুইটায়। সম্মেলনে আগত নেতা–কর্মীদের কারও গায়ে ছিল সবুজ রঙের টি–শার্ট, কারও গায়ে হলুদ রঙের পোশাক। কেউ পরে এসেছিলেন টিয়া রঙের টি–শার্ট, আবার কারও গায়ে লাল রঙের পোশাক। এভাবে নানা রংবেরঙের পোশাক পরে সম্মেলনে অংশ নেন তাঁরা।

সম্মেলন শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে ঢোল বাজিয়ে, ব্যান্ড পার্টি নিয়ে অনেক ইউনিটের নেতা–কর্মীরা এতে অংশ নেন। ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের এ সম্মেলনে দোহার, ধামরাই, সাভার, নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জসহ মোট সাত উপজেলার নেতা–কর্মীরা অংশ নিয়েছেন বলে মঞ্চ থেকে জানানো হয়।

সম্মেলনে অংশ নিতে ঢাকার আশপাশ এলাকা থেকে নেতা–কর্মীরা বাসে করে শেরেবাংলা নগরে এসে পৌঁছান। ‘জয় বাংলা, জিতবে আবার নৌকা’ গান বাজিয়ে আসেন তাঁরা। সম্মেলনস্থলে প্রবেশের পরই তাঁরা উৎসবে মেতে ওঠেন।

সম্মেলনে আগত নারীরাও বাহারি রঙের শাড়ি পরে এসেছিলেন। বেশির ভাগ এসেছিলেন লাল রঙের শাড়ি পরে। প্রতিটি উপজেলা থেকে আগত নেতা–কর্মীরা ঢোলের তালে নেচে–গেয়ে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করেন। ঢাকার পাশে কেরানীগঞ্জ থেকে ঘোড়ার গাড়ি সাজিয়ে নিয়ে এসেছেন নেতা–কর্মীরা। তিন চাকার ছোট গাড়িতে নৌকা তৈরি করেও এসেছেন কেউ কেউ।

এদিকে সম্মেলন কেন্দ্র করে শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠের একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে। নৌকার আদলে মূল মঞ্চ তৈরির পাশাপাশি নেতা–কর্মীদের সুশৃঙ্খলভাবে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নারী ও পুরুষের জন্য পর্যাপ্ত অস্থায়ী শৌচাগার তৈরি করা হয়েছে। ক্লান্ত নেতা–কর্মীদের খাওয়াদাওয়ার জন্য মঞ্চের পেছনে শামিয়ানা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাঁরা সম্মেলনে এসেছেন, তাঁদের গাড়ি নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সম্মেলন শুরুর আগে মঞ্চ থেকে জানানো হয়, ২২ হাজার চেয়ার মাঠে রাখা হয়েছে।

বেলা সোয়া দুইটার দিকে দলীয় ও জাতীয় পতাকা এবং বেলুন উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হয়। পরিবেশন করা হয় জাতীয় সংগীত। এ সময় সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতা–কর্মীরা দাঁড়িয়ে দেশের পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর মঞ্চের সামনে নির্মিত মঞ্চে গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। বেলা পৌনে তিনটার দিকে কোরআন তেলাওয়াত, গীতা ও বাইবেল পাঠের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের বক্তৃতা শুরু হয়।

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বক্তব্য দেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম প্রমুখ।

এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান; শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।