কোনো অবস্থায় মাঠ ছাড়ব না: জামায়াত

নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। ১১ ফেব্রুয়ারিছবি: প্রথম আলো

কোনো অবস্থাতেই জামায়াতে ইসলামী মাঠ ছাড়বে না বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেছেন, ‘কোনো অবস্থায় আমরা (জামায়াত) মাঠ ছাড়ব না, জনগণকে সাথে নিয়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করে একটা সুষ্ঠু, সুন্দর, গ্রহণযোগ্য শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেব। আপনাদের (গণমাধ্যমের) সহযোগিতা লাগবে।’

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আজ বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন এহসানুল মাহবুব।

বিকেল চারটার দিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের একটি প্রতিনিধিদল সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা, ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াত নেতা আটক, পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরা বিতরণে কম-বেশি হওয়া, ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলব প্রতিটা সেন্টারে। প্রতিরোধ হবে, গণপ্রতিরোধ হবে। যে জাতি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সন্ত্রাসীদের এবং ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছে, দেশ মুক্ত হয়েছে, সেই দেশ আবার মাথা নত করবে না, কেউ পার পাবেন না, আমরা জনগণকে সাথে নিয়েই তা প্রতিরোধ করব।’

বৈঠক শেষে জামায়াতের এই নেতা সাংবাদিকদের বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা হচ্ছে, ভোটকেন্দ্রে পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরা কম-বেশি হচ্ছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকা দেখতে চায় জামায়াত। নয়তো দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে দাবি করে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এগুলো কি কাকতালীয়, না একটার সঙ্গে আরেকটা সম্পর্কিত, সেটি প্রশ্নের বিষয়। নাটক সাজানো হচ্ছে, ব্রিফিং করা হচ্ছে, পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অতীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা আশা করেন যে কেউ এ ধরনের অন্যায় ও অন্যায্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন না।

ঠাকুরগাঁওয়ের জামায়াত নেতা আটক প্রসঙ্গে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে কর্তব্যরত কর্মকর্তারা দেখেছেন যে তাঁর ব্যাগে টাকা ছিল। ব্যাংক বন্ধ থাকায় ব্যবসার কাজে তিনি টাকা নিয়ে যেতে পারেন। এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় নেই। কিন্তু সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পুলিশ কিছু চিহ্নিত সাংবাদিককে নিয়ে একটি নাটক সাজিয়েছে। তিনি বর্তমানে রংপুর হাসপাতালে আছেন। একটি গোষ্ঠী, যারা মনে করছে যে জনগণের সমর্থন তাদের পক্ষে নেই, তারা জামায়াতের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ দাবি করেন তিনি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব। শাহজালাল বিমানবন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাঁকে টাকা নিতে অনুমতি দিয়েছেন, এর ভয়েস রেকর্ড আমাদের কাছে আছে।’

বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী ঐক্যের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে অভিযোগ করে এসব ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন বলেও জানান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। নির্বাচন কমিশনও তাঁদের আশ্বস্ত করেছে বলে তিনি জানান।

বডি ওর্ন ক্যামেরার বিষয়ে জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি  বলেন, ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা নিয়ে আমরা একটি তালিকা দেখেছি। কিছু আসনে অস্বাভাবিক বেশি, কিছু আসনে অস্বাভাবিক কম। আমাদের পর্যবেক্ষণ, যেখানে আমাদের সম্ভাবনা বেশি, সেখানে সংখ্যা বেশি, অন্যত্র কম। এটি কাকতালীয় নাকি উদ্দেশ্যমূলক, তা খতিয়ে দেখা উচিত। নির্বাচন কমিশন বলেছে, পুলিশের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা বলেছি, এমন হলে সেটা ক্রসচেক করা উচিত।’

ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে এহসানুল মাহবুব বলেন, ভোটকেন্দ্রে যাতে সন্ত্রাস না হয়, সে জন্য বারবার সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। কমিশন বলেছে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তবে তা দৃশ্যমান নয়। কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে ক্যামেরা থাকতে হবে, যাতে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারেন।

দেশে ভোট নিয়ে উৎসব শুরু হয়েছে উল্লেখ করে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দেশে মানুষের মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তা ব্যতিক্রমী একটা ঘটনা। এ পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সবার—সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল ও মিডিয়ারও। নির্বাচনে এজেন্টদের যাতে কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা না দেওয়া হয়, হুমকি না দেওয়া হয়, সেটি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।