জকসুতে শিবির–সমর্থিত প্যানেলের চার নারী প্রার্থীর সবাই জয়ী
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলে যে চারজন নারী প্রার্থী ছিলেন, তাঁদের সবাই বিজয়ী হয়েছেন। তাঁরা হলেন নওশীন নাওয়ার জয়া, সুখীমন খাতুন, ফাতেমা আক্তার (অওরিন) ও শান্তা আক্তার। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে তাঁদের ভোটের ব্যবধানও বেশি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবারই প্রথম হলো। গত মঙ্গলবার ভোট গ্রহণের পর গণনা শেষে বুধবার রাতে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
কেন্দ্রীয় সংসদ অর্থাৎ জকসুর ২১টি পদের মধ্যে ১৬টিতেই জয় পায় ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল চারটি পদে জয় পায়। বাকি একটি পদে জয়ী হন স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হওয়া এক শিক্ষার্থী।
‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের নওশীন নাওয়ার জয়া আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে জয়ী হন। তিনি পান ৪ হাজার ৫০১ ভোট। এ পদে ছাত্রদল–সমর্থিত প্রার্থী অপু মুন্সি পান ২ হাজার ৩১৬ ভোট। তাঁদের ভোটের ব্যবধান ২ হাজার ১৮৫।
সুখীমন খাতুন ৪ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এ পদে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল–সমর্থিত প্রার্থী মো. মাশফিকুল ইসলাম রাইন পান ৩ হাজার ১৭৬ ভোট। তাঁদের ভোটের ব্যবধান ১ হাজার ৩৫০।
কার্যনির্বাহী সদস্য পদে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন ফাতেমা আক্তার (অওরিন)। তিনি পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৫১ ভোট। একই পদে শান্তা আক্তার ৩ হাজার ৫৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব।
জকসুকে ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেল থেকে তিনজন নারী প্রার্থী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে জিএস প্রার্থী ছিলেন খাদিজাতুল কুবরা। এই প্যানেলে কোনো নারী জয়ী হতে পারেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়টির একমাত্র ছাত্রী হলেও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রী সংস্থার প্রার্থীরা বিজয়ী হন।
শিবিরের আধিপত্যের মধ্যেও বিজয়ী যাঁরা
ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চাকসুর মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের আধিপত্য দেখা গেল। জকসুতে তার মধ্যেও তিনটি সম্পাদকীয় পদ এবং একটি সদস্যপদে ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হন। ছাত্রদলের পাশাপাশি ছাত্র অধিকার পরিষদও এই প্যানেলে ছিল। তার পাশাপাশি কোনো সংগঠনে যুক্ত নন, এমন শিক্ষার্থীরাও ছিলেন এই প্যানেলে।
সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ৫ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের মো. তাকরিম আহমেদ। তাকরিম ছাত্রদলের সদস্য নন, কিন্তু ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের জন্য পরিচিত মুখ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রঙ্গভূমির সভাপতি ও ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক তিনি।
‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল থেকে পরিবহন সম্পাদক পদে ৪ হাজার ২৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন মো. মাহিদ হোসেন। তিনি ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি।
পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের মো. রিয়াসাল রাকিব ৪ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন–সুবিধা নিশ্চিতের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।
কার্যনির্বাহী সদস্য পদের সাতটির মধ্যে পাঁচটিতে শিবির জয় পেলেও দুটিতে ভিন্ন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল থেকে সদস্যপদে ৩ হাজার ৩০৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মোহাম্মদ সাদমান আমিন।
বিজয়ী একমাত্র স্বতন্ত্র জাহিদ
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সদস্যপদে ৩ হাজার ১২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মো. জাহিদ হাসান। তিনি কোনো সংগঠনে যুক্ত না থাকলেও অভিনব প্রচারণা চালিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন।
সব প্রার্থী যেখানে লিফলেট ছাপিয়ে বিলি করিলেন, তখন তিনি প্ল্যাকার্ড বানিয়ে সবার ধারে ধারে ঘুরে বেড়াতেন। তিনি তাঁর সমর্থক ও অনুসারীদের নিয়ে ক্যাম্পাসের সব জায়গায় ঘুরে ভোট চেয়েছিলেন। তাঁর পরিচয় পোস্টার–কাগজে লিখে সবার সামনে উপস্থাপন করছেন। তাঁর পুরো প্রচার দল ‘ফরমাল’ পোশাকে (মেয়েরা শাড়ি, ছেলেরা স্যুট) প্ল্যাকার্ড শো পরিচালনা করেন।