রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: বিএনপি প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি, জামায়াতের বৈঠক কাল
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল বৃহস্পতিবার ঘোষিত তফসিল অনুসারে, রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল থেকে আলাদা প্রার্থী দেওয়া হলেই ভোটের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে। বিরোধী দল রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়ন না দিলে ভোটের প্রয়োজনই হয়তো হবে না।
ঘোষিত তফসিল অনুসারে, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ওই দিনই আসলে নিশ্চিত হয়ে যাবে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ দরকার হবে কি না। প্রার্থী যাচাই–বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী না থাকলে ইসি সেদিনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করবে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন শুধু সংসদ সদস্যরা। বর্তমান জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত প্রার্থীরই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়া অনেকটাই নিশ্চিত। যদিও বিএনপি দলীয়ভাবে এখনো রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি।
অন্যদিকে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) অন্য বিরোধী দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ আছে। তবে বিরোধী দলগুলোর সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য বিরোধী দলগুলো এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করতে হবে।
গত শনিবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়। নতুন রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে বিএনপি ছাড়াও বিভিন্ন মহলে কৌতূহল রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় আছে। এর মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্যতম। এ ছাড়া নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান ও খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামও আলোচনায় এসেছে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা হাফিজ উদ্দিন আহমদকেও বিএনপির কেউ কেউ সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতির তালিকায় রাখছেন।
বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং দল ও সরকারে কার ভূমিকা কোথায় বেশি প্রয়োজন—এসব বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। সব দিক বিবেচনায় সম্ভাব্যদের তালিকা আগের চেয়ে ছোট হয়ে এসেছে।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দল ও সরকারে একাধিক সাংগঠনিক পরিবর্তন আনতে হবে। সে ক্ষেত্রে তাঁকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে হবে। পাশাপাশি বিএনপির মহাসচিব পদেও নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হয়ে যাবে। এই আসন থেকেই মির্জা ফখরুল সংসদ সদস্য হয়েছেন। ফলে ওই আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হবে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। আগামীকাল শনিবার দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক হবে। সেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে দলীয় অবস্থান চূড়ান্ত করা হতে পারে।
জামায়াতের নেতারা বলছেন, নির্বাচন বর্জন, দলীয় প্রার্থী দেওয়া এবং অন্য দলের কাউকে সমর্থন—তিনটি সম্ভাবনা নিয়েই দলে আলোচনা আছে। শনিবারের বৈঠকে যেকোনো একটি বেছে নেওয়া হতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে তাঁরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। দলের পরবর্তী নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে, সিদ্ধান্তও আসতে পারে।