এবারও একটি দল ষড়যন্ত্র করছে

কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়াম মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ছবি: প্রথম আলো।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গত পনের বছর যেমন নিশিরাতের নির্বাচন হয়েছে, আপনাদের ভোট দিতে দেয় নাই, সেই একইভাবে এবারও একটি দল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়াম মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এ কথা বলেন। তিনি রাত ১২টা ১৭ মিনিটে সভাস্থলে পৌঁছানোর পর সাড়ে ১২টায় বক্তব্য শুরু করেন। এর আগে কিশোরগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটি আসনের দল মনোনীত প্রার্থীরা বক্তব্য দেন।

জনসভায় তারেক রহমান বলেন, প্রবাসী ভাইদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের কথা বলেছিলাম। সরকার সেটা পূরণ করেছে। সবটা না পারলেও অনেকটা করেছে। কিন্তু পত্রিকার খবরে দেখলাম পোস্টাল ব্যালট সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। মা বোনদের আইডি নম্বর নিচ্ছে, ফোন ও বিকাশ নম্বর নিচ্ছে।

৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় একটি দল দেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তাদের কারণে এই দেশের লক্ষ লক্ষ মা বোনের সম্মানহানি হয়েছিল। তারা কী জিনিস বাংলাদেশের মানুষ দেখে ফেলেছে।

উপস্থিত নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এবার সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গেলে হবে না। এবার ঘুম থেকে উঠতে হবে তাহাজ্জুদের নামাজের সময়। তাহাজ্জুদ পড়ে যার যার ভোটকেন্দ্রে ফজরের জামাত আদায় করতে হবে। এরপর লাইনে দাঁড়িয়ে যেতে হবে।

দেশের মহাসড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে সড়কের দুরাবস্থার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। ২০০৫ সালে খালেদা জিয়া যখন সরকারে ছিল তখন ঢাকা- সিলেট মহাসড়ক দিয়ে সাড়ে চার ঘন্টা লাগত। আজ লেগেছে দশ ঘন্টা। শুধু মহাসড়ক নয়, হাসপাতালে হাসপাতালে ওষুধের অভাব। বিদ্যুৎ থাকে না। ইন্টারনেটের সমস্যা। এর বাইরে আরও সমস্যা আছে। লক্ষ লক্ষ তরুণ বেকার। খাল বন্ধ হয়ে গেছে।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়াম মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত জনতার একাংশ। ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬
ছবি: প্রথম আলো।

তারেক রহমান বলেন, দেশের বড় সেক্টর কৃষি সেক্টর। খালেদা জিয়া সরকার কৃষকদের ৫ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মাফ করে দিয়েছিল। ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা লাগত না। শিক্ষাপ্রসারে বিনামূল্যে বই দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

ক্ষমতায় গেলে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তিনি সভাস্থলে পকেট থেকে কয়েকটি কার্ড বের করে তা উপস্থিত জনতার সামনে দেখান।

তারেক রহমান বলেন, ‘এই কার্ডগুলো হলো কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে কৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে সহজে সার ও কৃষি ঋণ পাওয়া যাবে। শস্যের ক্ষতি হলে বীমা সুবিধাও মিলবে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এতে করে স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে।’

তারেক আরও বলেন, বেকার তরুণদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে যাতে তারা দক্ষ হয়ে বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে। এই উদ্দেশ্যে প্রতিটি জেলায় কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মসজিদের ইমাম, খতিব ও মোয়াজ্জিনের জন্য সম্মানির ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। পরে তিনি জনতাকে জিজ্ঞেস করেন, এই পরিকল্পনা ঠিক আছে কি না। উপস্থিত জনতা একসুরে বলেন, ‘ঠিক আছে।’ এরপর তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, বিনামূল্যে বই, ইমাম‑খতিব‑মোয়াজ্জিনের সম্মানি পেতে হলে ১২ তারিখ ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ অঞ্চল) শরিফুল আলম। তিনি এবার ধানের শীষ প্রতীকে কিশোরগঞ্জ-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তারেক রহমান আসার আগে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের দলীয় প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এম উসমান ফারুক, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের দলীয় প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের দলীয় প্রার্থী মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, এবং কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের দলীয় প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী ফজলুর রহমান আসার পথে অসুস্থ হয়ে পড়ায় জনসভায় যোগ দিতে পারেননি।