রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের শাস্তি চায় এনসিপি, ছাত্রশক্তি ও ছাত্র ফ্রন্ট

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের হামলায় সাংবাদিকসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। রোববার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনেছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), দলটির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) পৃথক বিবৃতিতে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে অবিলম্বে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

গতকাল রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানার পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্তবুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ প্রশাসনও এর দায় এড়াতে পারে না। বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের দলীয় ও রাষ্ট্রীয় আইনে দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

আরও পড়ুন

জাতীয় ছাত্রশক্তির দপ্তর সম্পাদক সরদার নাদিম মাহমুদের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ক্যাম্পাসগুলোতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের ধারাবাহিক হামলা মুক্তগণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার টুঁটি চেপে ধরার বহিঃপ্রকাশ। সংগঠনটি রাবিতে হামলায় নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদল নেতা এম আহসান হাবীবসহ জড়িত সবাইকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।

এদিকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, রাবির এই ঘটনা ক্যাম্পাসে পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতির ভয়াবহ রূপ সামনে এনেছে। প্রশাসন যদি নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। সংগঠনটি আহত সাংবাদিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত এবং সাংবাদিকদের কাজের নিরাপদ পরিবেশ তৈরির দাবি জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বক্তব্যে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলার সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ বরাবরের মতোই নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করেছে। গত ২৩ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও একই কায়দায় শাহবাগ থানার ভেতরে ডাকসু নেতা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে ছাত্রদল। সেই ঘটনায় নির্লজ্জ নির্লিপ্ততার পরিচয় দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দলকানা প্রশাসন। বিএনপি ও ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা সংবাদমাধ্যমকে ভয় পায়। এ জন্য একের পর এক সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে। সরকারকে বলব, প্রতিটি ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে অবিলম্বে ছাত্রদলের সন্ত্রাসের লাগাম টেনে ধরুন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনুন, অন্যথায় ছাত্রসমাজ ফুঁসে উঠলে সামলাতে পারবেন না।’