বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেছেন, সরকারিভাবে দেশে নতুন কোনো পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই। সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে এই খাতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে জামালপুর–৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য জানান।
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, সোনালি আঁশ পাটশিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। প্রকল্পটি ৩০ জুন সমাপ্ত হবে। পরবর্তী সময়ে একই ধরনের কার্যক্রম নিয়ে রাজস্ব বাজেটের আওতায় নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯টি মিল চালু আছে। ২০২০ সালে সরকারি সিদ্ধান্তে ২৫টি মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ২০টি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা ভিত্তিতে চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এখন পর্যন্ত ১৪টি মিল ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি মিল চালু হয়েছে।
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জানান, ইজারাবহির্ভূত ৫টি মিল রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ায় এবং মামলার কারণে ২টি মিল ইজারার বাইরে রাখা হয়েছিল।
কৃত্রিম তন্তুর কারণে পাটজাত পণ্য হুমকির মুখে
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, পাটপণ্য রপ্তানিতে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশ্বব্যাপী স্বল্প মূল্যের কৃত্রিম তন্তুর সহজলভ্যতা ও ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে পাটজাত পণ্য বিশ্ববাজারে হুমকির মধ্যে পড়েছে। বেশির ভাগ পাটকলে পুরোনো প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। দেশে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব টেস্টের সুবিধা না থাকার কারণে রপ্তানিকারকেরা পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে।