রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী দলের ‘ওয়াকআউটের’ কারণ বললেন জামায়াত আমির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের সময় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা কেন অধিবেশন থেকে বেরিয়ে গেলেন, তার কারণ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদ অধিবেশন থেকে ‘ওয়াকআউটের’ পর সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে শফিকুর রহমান এসব কারণ তুলে ধরেন। তাঁর মতে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি তিন কারণে ‘অপরাধী’।

এই বক্তব্যের পক্ষে ব্যাখ্যা দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘প্রথম কারণ হচ্ছে, তিনি সমস্ত খুনের সহযোগী ছিলেন। তাঁর আমলে যে খুনগুলো হয়েছে, একটা খুনের বিরুদ্ধেও তিনি শাসকগোষ্ঠীর প্রতিবাদ করেননি। তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রের অভিভাবক। অভিভাবক হিসেবে তিনি জঘন্য অপরাধ করেছেন রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতি।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা জানেন আগস্ট মাসের পাঁচ তারিখ চব্বিশ সালে তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। সেই ভাষণে তিনি বলেছিলেন যে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা মঞ্জুর করেছেন। পরবর্তী পর্যায়ে আপনারা দেখেছেন, দুইটা মিডিয়ার সাথে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি তা অস্বীকার করেছেন। নতুন গল্প সামনে নিয়ে এসেছেন। তিনি জাতির সামনে মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন। দেশের প্রেসিডেন্ট মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হওয়ার পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর আর কোনো নৈতিক অধিকার থাকে না।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘তিন নম্বর অপরাধ তিনি (রাষ্ট্রপতি) করেছেন, তিনি নিজের হাতে অর্ডিন্যান্স সাইন করেছেন। এই জুলাই অভ্যুত্থানের পরে ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ নির্বাচন হবে, নির্বাচনের পরে যা&রা নির্বাচিত হবেন, তাঁরা দুইটা ক্যাপাসিটিতে নির্বাচিত হবেন। তাঁরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন এবং তাঁরা একই সাথে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন। একই দিনে উভয় শপথ একই ব্যক্তি পড়াবেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় সেই শপথ দুটো আমরা নিলেও সরকারি দল নেয়নি। তাঁর প্রথম দায়িত্ব ছিল, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের ভিতরে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা। তিনি সেই অধিবেশন ডাকেননি। গণভোটে হ্যাঁ–এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৭০ ভাগ মানুষ। তিনি ৭০ ভাগ জনগণকে, দেশবাসীকে অপমান করেছেন। এখানেও তিনি অপরাধ করেছেন।’

এসব কারণে বিরোধী দল রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনতে চায়নি উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদ জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর, খুনের সহযোগীরা যাতে সংসদে বক্তব্য রাখতে না পারে, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সেই অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারি দলকেও অনুরোধ জানিয়েছিলাম, মাননীয় স্পিকার মহোদয়কেও অনুরোধ জানিয়েছিলাম, তাঁকে (রাষ্ট্রপতি) যেন ভাষণ দিতে দেওয়া না হয়। তাঁরা আমাদের কথা গ্রাহ্য করেননি, আমরা সংক্ষুব্ধ হয়ে সংসদ থেকে বের হয়ে এসেছি। আগামীতে এই সংসদে কোনো অন্যায়কে আমরা বরদাশত করব না এবং মেনে নিব না।’

জামায়াত আমির বলেন, বিরোধী দল জনগণের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় লড়াই করে যাবে। জনগণের রায়ের প্রতি বিরোধী দলের সম্মান আছে। জনগণকে বিরোধী দলের সঙ্গে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তবে আজকের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করলেও সামনের অধিবেশনগুলোতে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন শফিকুর রহমান।

এ সময় বিরোধীদলীয় চিপ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের শুরু থেকে বিরোধী দল নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অংশগ্রহণ করেছে, বক্তব্য রেখেছে। ফ্যাসিবাদের দোসর কেউ যাতে সংসদে বক্তব্য দিতে না পারে, সে বিষয়ে স্পিকারকে অনুরোধ করা হয়েছে। কারণ, এই সংসদ ফ্যাসিবাদমুক্ত সংসদ। হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এই সংসদ এসেছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ফ্যাসিস্টের দোসর রাষ্ট্রপতি যখন বক্তব্য দিতে এসেছেন, তখন স্পিকারকে বারবার বলা হয়েছে, এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বক্তব্য দেবেন। সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।’ এর প্রতিবাদস্বরূপ তাঁরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বলে জানান তিনি।