স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও রাজাকারদের আস্ফালন দেখতে হয়, যা দেশের জন্য চরম লজ্জার

সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতারা। ২৬ মার্চ, ২০২৬ছবি: সিপিবির সৌজন্যে

শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বাধীনতাকামী জনগণ দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তির জনযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও রাজাকারদের আস্ফালন দেখতে হয়, যা বাংলাদেশের জন্য চরম লজ্জার।

মহান স্বাধীনতা দিবসে আজ বৃহস্পতিবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতারা এ কথা বলেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। আজ সকাল ৯টায় দলের পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন তাঁরা।

পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে সিপিবি নেতারা বলেন, স্বাধীনতার পর পুঁজিবাদী মুক্তবাজার অর্থনীতি অনুসরণের ফলে দেশে বৈষম্য এখন চরম আকার ধারণ করেছে। এতে সাধারণ মানুষের মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার উপেক্ষিত থাকছে। দেশের ভৌগোলিক স্বাধীনতা অর্জিত হলেও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।

সিপিবি নেতারা আরও বলেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা শুধু বাংলাদেশের নয় বরং এটি সমগ্র মানবতার বিরুদ্ধে একটি জঘন্য অপরাধ। অথচ আন্তর্জাতিক পরিসরে এখনো এই গণহত্যার যথাযথ স্বীকৃতি মেলেনি। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে এই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

নেতারা বলেন, ১৯৭১ সালে যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীতে যুক্ত হয়ে গণহত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটে অংশ নিয়েছিল, তাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পুনর্বাসন এখনো সমাজে বিদ্যমান। এই দোসরদের শুধু ব্যক্তিগত বিচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাংগঠনিকভাবে চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের রাজনীতি করার সব সুযোগ বন্ধ করতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করার নানা অপচেষ্টা এখনো চলছে উল্লেখ করে নেতারা বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে শিক্ষাব্যবস্থা, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী স্থাপনা ও ভাস্কর্য ভাঙচুর ও অবহেলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সেগুলো দ্রুত সংস্কার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্বাফি রতন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবিদ হোসেন, লাকী আক্তারসহ দলের অন্য নেতা-কর্মীরা।

এর আগে ২৫ মার্চ কালরাতে সিপিবি কার্যালয় পুরানা পল্টন থেকে শিখা চিরন্তন পর্যন্ত শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।