আজ সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক ছাত্র সমাবেশে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা এসব কথা বলেন। ‘আন্তর্জাতিক নীতিমালা অমান্য করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে মিয়ানমার কর্তৃক সীমানা লঙ্ঘন ও হামলার নিন্দা এবং বাংলাদেশ সীমান্তে প্রাণহানি ও আহতের ঘটনার প্রতিবাদে’ এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, মিয়ানমার থেকে নিক্ষেপ করা মর্টারের গোলায় বাংলাদেশের একজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের এত জনপ্রতিনিধি, এত নেতা-কর্মী থাকলেও এই ঘটনায় কাউকে বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। সরকারের পক্ষ থেকেও বড় পরিসরে সুস্পষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

বিন ইয়ামিন আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এলে যদি কারও বুক না কাঁপে, রক্ত গরম না হয়, তাহলে তাঁর ভেতরে দেশপ্রেম নেই বলে মন্তব্য করেন বিন ইয়ামিন। তিনি বলেন, মিয়ানমার বোঝাতে চায় তারা বাংলাদেশকে কেয়ার (গুরুত্ব দেওয়া) করে না। তারা (মিয়ানমার) বলতে চায়, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে চলে যাও, তোমাদের মিয়ানমারে থাকতে দেওয়া হবে না। এটাই মিয়ানমারের জান্তা সরকারের নীলনকশা। সরকারকে বলতে চাই, আপনারা দেশকে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হলে ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ব্যর্থ হলে পদত্যাগ করে চলে যান।

ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, দেশ রক্ষা করতে এই সরকার অক্ষম। তারা জনগণের কথা চিন্তা করে না। তাই দেশ রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং গণপ্রতিরক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার বেফাঁস মন্তব্য করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন। মিয়ানমারের মর্টারের গোলা নিক্ষেপের ঘটনায় তিনি কূটনৈতিক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে তাঁকে দ্রুত  পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় ছাত্র অধিকার পরিষদ দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।

ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা শাকিল মিয়ার সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে সংগঠনের নেতা আখতার হোসেন, তারেকুল ইসলাম, আসিফ মাহমুদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন