রুমিন ফারহানা বলেন, যে অবস্থাই হোক সরকার সব দোষ চাপাচ্ছে তিন নন্দ ঘোষের ওপর। তিন নন্দ ঘোষ হলো করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও বিশ্বমন্দা। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে এই সরকার যখন ক্ষমতায় এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে মেয়াদের পর মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার জন্য। এভাবে ক্ষমতায় থাকতে গোষ্ঠীতত্ত্ব কায়েম করতে হয়। তাদের খুশি রাখতে আইন প্রণয়ন করতে হয়। তাদের সুবিধার্থে নিয়মকানুনও করতে হয়। তাদেরকে পালতে ও পুষতে হয়।

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রভাব সারা বিশ্বে পড়েছে। এতে যদি চরম অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টি হয়, তাহলে বাংলাদেশের চেয়ে কম মাথাপিছু আয়ের দেশ ভারত, নেপাল ও আফ্রিকার অনেক গরিব দেশকে বিবিসি কেন শ্রীলঙ্কা হওয়ার তালিকায় রাখেনি? বিগত এক যুগে যে লুটপাট হয়েছে, তা হওয়ারই কথা ছিল। কুইক রেন্টালে বিদ্যুৎ খাতে দায়মুক্তির সমালোচনা করেন রুমিন ফারহানা। এই খাতসহ অবকাঠামো উন্নয়নে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, যেখানে লুটপাট হয়, সেখানে টাকা পাচার স্বাভাবিক।

দিনের বেলায় বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই–ইলাহী চৌধুরীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি কী অবস্থায় আছে, সেটা তাঁর (তৌফিক-ই–ইলাহী) চেয়ে আর বেশি ভালো কেউ জানেন না।’

আগামী বছর দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, সাধারণভাবে ভাবতে গেলে মনে হবে প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য কৌশলগতভাবে ভুল। যখন তাঁর পক্ষ থেকে এমন বার্তা আসে, তখন আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এতে মানুষ খরচ করা কমিয়ে দেবে ও অর্থনীতির চাকা স্থবির হয়ে পড়বে।