বর্তমান সরকারের আমলে ৪৬৪টি হত্যা ও ৬৬৬টি ধর্ষণ মামলা হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৪৬৪টি হত্যা মামলা এবং ৬৬৬টি ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব হত্যা মামলায় ৬০৪ জন এবং ধর্ষণ মামলায় ৫৩০ জন আসামী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলায় ১১ জন এবং ধর্ষণ মামলায় ৭১ জন আসামী জামিনে মুক্তি পেয়েছে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য (কুমিল্লা-৪) আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ড ঘৃণ্য অপরাধ, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দেশের উন্নয়নে সুষ্ঠু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধ মুক্ত সমাজ ব্যবস্থার বিকল্প নেই। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার একটানা ১৫ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকাকালে তাদের অনুগত সন্ত্রাসী বাহিনী ভূমি দখল, জল, বালু মহাল দখল, বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। বর্তমান সরকার এ সকল অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করায় অল্প সময়ের মধ্যে ভূমি দখল, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার ফলে এ সকল অপরাধ অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে ২ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৪টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ পদ ২ লাখ ৭ হাজার ৭৪৫, নন-পুলিশ পদ ৮ হাজার ৪৭টি এবং নন-পুলিশ আউটসোর্সিং পদ ২ হাজার ৭৬২টি। এ ছাড়া নতুন করে আরও ১৪,৫০০ পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর মধ্যে এএসপি পদ ৫০০, এসআই (নিরস্ত্র) ৪ হাজার এবং ১০ হাজার কনস্টেবল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৭০৩টি কনস্টেবলের শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া সরাসরি ২ হাজার এএসআই নিয়োগ করা হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুম কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে সংরক্ষিত আছে। নিখোঁজ বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বা ভুক্তভোগী পরিবারগুলিকে আইনী সহায়তাসহ সকল ধরনের সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ আনার উদ্যোগ
বিএনপির সংসদ সদস্য এ ই সুলতান মাহমুদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডায় দুইজন বাংলাদেশী শিক্ষার্থী নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও ফ্লোরিডারস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল নিহতদের পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে এ বিষয়ে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রেখেছে। নিহতদের দেহাবশেষ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইউএনএইচসিআরের সর্বশেষ (১৩ এপ্রিল) তথ্য মতে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে (আইসিজে) চলমান মামলার রায় শিগগিরই আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলায় মিয়ানমারের দায় নির্ধারণ, চলমান নিপীড়ন বন্ধ, ভুক্তভোগীদের ন্যায় বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একাধিক রাষ্ট্রের অংশগ্রহণে লিখিত ও মৌখিক শুনানি সম্পন্নসহ মামলাটি ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে অগ্রসর হয়েছে।
আদালতের রায় শীঘ্রই প্রত্যাশিত। যদিও বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এ মামলার পক্ষ নয়, তবে ওআইসির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং আর্থিকসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা প্রদান করে আসছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফর রহমানের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে বসবাসরত ১২ লাখ রোহিঙ্গার দ্রুততার সঙ্গে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে। মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমানা সুরক্ষিত রাখা এবং মানব পাচার, মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে। এ লক্ষ্যে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে বলে তিনি জানান।