জামায়াতে ইসলামীসহ ১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আসন সমঝোতা অনেকটাই চূড়ান্ত হয়ে গেছে। সমঝোতা অনুযায়ী, তিন শ আসনের মধ্যে ২৯৪টিতে ১০ দলের একক প্রার্থী থাকবে। আর ৬টি আসন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, সেগুলোতে একাধিক দলের প্রার্থী রয়েছে।
দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াত ২১৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এসব আসনে ১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে থাকা অন্য কোনো দলের প্রার্থী থাকছে না। তবে উন্মুক্ত থাকা আসনগুলোতে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হলে জামায়াতের আসন বাড়তেও পারে।
জামায়াত বাদে নির্বাচনী ঐক্যে থাকা অন্য দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২৯টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৩টি, খেলাফত মজলিস ১২টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, এবি পার্টি ৩টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২টি আসনে এককভাবে নির্বাচন করবে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, জামায়াত ২১৫ আসনে নির্বাচন করবে, যেগুলোতে সমঝোতায় থাকা অন্য দলগুলোর প্রার্থী থাকছে না। তবে দু–একটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীর সঙ্গে অন্য দলগুলোর প্রার্থীও আছে।
তিনি বলেন, উন্মুক্ত থাকা আসনগুলোর মধ্যে বেশি প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিসের। এনসিপি ও এবি পার্টিরও প্রার্থী আছে। নির্বাচনী প্রচার শুরু হলে যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে আসন সমঝোতা হয়ে যেতে পারে আবার শেষ পর্যন্ত উন্মুক্তও থাকতে পারে।
এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ২৯ আসনে তাঁদের দলের একক প্রার্থী থাকছেন। তবে মৌলভীবাজার-৪ আসনটি উন্মুক্ত থাকবে, যেখানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসেরও প্রার্থী রয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জানায়, দলটি ২৯টি আসনে রিকশা প্রতীকের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ২৩টি সংসদীয় আসনে দলীয় প্রার্থীরা এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর ৬টি আসন উন্মুক্ত থাকবে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ-৩ ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনে খেলাফত মজলিস, মৌলভীবাজার-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপি, ফেনী-২ আসনে এবি পার্টি এবং ফরিদপুর-৪ আসনে জামায়াতের সঙ্গে উন্মুক্ত থাকবে।
খেলাফত মজলিস সূত্র জানিয়েছে, দলটির ৭২ জন প্রার্থীর মধ্যে গতকাল শেষ সময় পর্যন্ত ৫৩ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এখনো প্রত্যাহার করেননি ১৯ জন। এর মধ্যে ১২টি আসনে দলটির নেতারা ১০–দলীয় ঐক্যের একক প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আগে চট্টগ্রাম–১৩ আসনে খেলাফত মজলিস ছাড় পাওয়ার কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত আসনটিতে প্রার্থী থাকছে জামায়াতের।
এবি পার্টি সূত্রে জানা গেছে, ফেনী–২, বরিশাল–৩ এবং পটুয়াখালী–১—এই তিন আসনে এককভাবে এবি পার্টির প্রার্থী থাকছে। সুনামগঞ্জ-৩ ও কুমিল্লা-৫ আসন উন্মুক্ত থাকছে, যেখানে দলটির আরও দুজন প্রার্থীর সঙ্গে অন্য দলগুলোরও প্রার্থী থাকছে।
উন্মুক্ত থাকা আসনগুলোতে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সমঝোতা হয়ে যাবে বলে আশা করছে জামায়াত। দলটির প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রথম আলোকে বলেন, যেসব আসন উন্মুক্ত থাকছে, সেখানে নির্বাচনী প্রচার শুরু হলে প্রার্থীদের যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা ও কর্মকাণ্ড বিবেচনা করা হবে। আশা করা যায়, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এসব আসনেও সমঝোতা হয়ে যাবে।