বিএনপির সমর্থনে প্রথমবার এমপি হয়েই জোনায়েদ সাকি প্রতিমন্ত্রী, দায়িত্ব অর্থে
জোনায়েদ সাকির তিন দশকের বেশি সময়ের নিরবচ্ছিন্ন রাজনৈতিক যাত্রা মন্ত্রিসভায় পৌঁছাল। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নতুন সরকারে ঠাঁই করে নিয়েছেন তিনি। এর আগে বিএনপির সমর্থনে সংসদ সদস্য হন গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি নতুন সরকার গঠন করে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর মন্ত্রিসভায় মিত্রদলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও রেখেছেন। তাঁদের মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিকে করা হয়েছে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এই দুই দপ্তরের মন্ত্রী হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমী খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এবারের নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে প্রার্থী হন ৫৫ বছর বয়সী জোনায়েদ সাকি। বিএনপি তার মিত্রদলগুলোকে যে কটি আসন ছেড়ে দিয়েছিল, এটি ছিল তার একটি। দলীয় প্রতীক মাথালে ৯৫ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হন জোনায়েদ সাকি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে তাঁর ভোটের ব্যবধান ছিল ৫৫ হাজার।
জোনায়েদ সাকি এর আগে ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে ভোটে বিজয়ী হলেন এই প্রথম। আর প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই প্রতিমন্ত্রী হলেন।
সরকারি কর্মকর্তার ছেলে জোনায়েদ সাকির জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকার বাসাবো এলাকায়। মাধ্যমিক পাসের পর তিনি ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, পরিসংখ্যান বিভাগে। তবে রাজনীতিতে সক্রিয়তার কারণে সেখানে তাঁর পড়াশোনা অসমাপ্ত থাকে। পরে তিনি অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক ডিগ্রি নেন। হলফনামায় তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখেছেন ‘বিএ’।
১৯৯০ সালের গণ–অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনে রাজনীতিতে হাতেখড়ি জোনায়েদ সাকির। তখন তিনি বদরুদ্দীন উমরের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৮ সালে এই সংগঠনের সভাপতি হন তিনি। ২০০২ সালে গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোট ভেঙে গণসংহতি আন্দোলন গড়ে উঠলে এই দলের দায়িত্ব নেন জোনায়েদ সাকি। ২০১৫ সালে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
দীর্ঘ সময় ধরে রাজপথকেন্দ্রিক আন্দোলনের ভেতর দিয়ে নিজস্ব একটি রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তোলেন জোনায়েদ সাকি। সেই সঙ্গে টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজনীতির পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।
আওয়ামী লীগের অপশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের শুরুতে বাম দলগুলোর জোটে ছিল গণসংহতি আন্দোলন। একপর্যায়ে বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে দলটির। ২০২২ সালে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনে সক্রিয় হন জোনায়েদ সাকি। এরপর বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্য গড়ে তোলেন।
জোনায়েদ সাকির স্ত্রী তাসলিমা আক্তারও রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনিও গণসংহতি আন্দোলনের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে যুক্ত রয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনে। এবারের নির্বাচনে তিনি মাথাল প্রতীকে ঢাকা–১২ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন, তবে জামানত হারিয়েছেন।
জোনায়েদ সাকি নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর পেশা উল্লেখ করেছেন প্রকাশক। তিনি তাঁর বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন প্রায় ৮ লাখ টাকা। ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পত্তি থাকার কথা লিখেছেন তিনি। সেই সঙ্গে জমি দেখিয়েছেন ১১ একর, এর মূল্য ‘অজানা’ বলেছেন তিনি। ২০২৫–২৬ করবর্ষে তিনি তাঁর সম্পদের মূল্যমান দেখিয়েছেন ৪৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা।