প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ‘আশাবাদে ভারাক্রান্ত’ বলে উল্লেখ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দলটি বলেছে, এত বেশি আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে যে বাজেটকে আশাবাদে ভারাক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। এই বাজেট বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।
ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে দলের মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির আশাবাদ, মূল্যস্ফীতি ৭.৫-এ নামিয়ে আনা, ৬.৫ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা বর্তমান বাস্তবতায় কঠিন হবে। বাজেট বক্তব্যে ভঙ্গুর অর্থনীতি, অস্থির বিশ্বরাজনীতির কথা আলোচনা করেও এমন আশাবাদ ব্যক্ত করা কেবলই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বলেই মনে হচ্ছে। জনগণকে অর্জন অযোগ্য আশা না দিয়ে বাস্তবভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত।
তবে বাজেট সুলিখিত উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলন বলেছে, সমাজ-সংস্কৃতির বুনন, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ণ, জনমিতিক লভ্যাংশ, দীর্ঘজীবিতা লভ্যাংশ ও গণতান্ত্রিক লভ্যাংশের কথা বলা হয়েছে। স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ন্যায্যতাকে মূল বিবেচনা করে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো সাধুবাদযোগ্য।
ইসলামী আন্দোলন বলেছে, কর ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আনার মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি রোধ করা, রাজস্ব-জিডিপির অনুপাত আগামী ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে ৯.৬০ শতাংশে উন্নীত করার আশাবাদ চ্যালেঞ্জিং হবে। কারণ, রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি ও চর্চা দুর্নীতি এবং অদক্ষতায় নিমজ্জিত। এই খাতে সংস্কার আনতে অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়েছিল।
ইসলামী আন্দোলন বলেছে, ঋণনির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির আশাবাদকে তারা সাধুবাদ জানায়। কিন্তু নীতি দুর্বলতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংস্কার নিয়ে সরকারের অনীহা বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির জন্য অদৃশ্য বাধা হয়ে আছে।
দলটি আরও বলেছে, বাজেট প্রণয়নের আগে কেবল ব্যবসায়ী ও সমাজের ওপরের তলার অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হয়। কিন্তু শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হয় না। এবারও তার ব্যক্তিক্রম হয়নি। জনমানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে, তাদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাজেট তৈরি করতে হবে।