সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে গণসংহতির প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকার ভোটাধিকার হরণ করেছে। দেশের সার্বভৌমত্বকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। লুটপাট করে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে প্রায় দেউলিয়া করেছে। টাকা পাচার করে দেশে অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধান জনগণের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি, বরং স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দিয়েছে। সুতরাং এই সংবিধান সংস্কার করে একটা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ছাড়া দেশ আরও বিপর্যয়ের দিকে যাবে। দেশকে সামগ্রিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার জন্য জনগণের রাজনৈতিক শক্তিকে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নির্বাচন করতে হবে।

গণসংহতির নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান বলেন, কয়েক দিন আগে সরকার বলত, বাংলাদেশকে তারা কানাডা, সিঙ্গাপুর বানাবে। কিন্তু এখন বলছে, দিনে বাতি জ্বালানোর দরকার নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যা খাদ্য আছে, তার কারণে এখানে দুর্ভিক্ষ হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। খাদ্যের অভাবে দুর্ভিক্ষ হয় না। দুর্ভিক্ষ হয় গণতন্ত্র না থাকলে। দুর্ভিক্ষ হয় মানুষের পকেটে টাকা না থাকলে।

এই দেশ বহু জাতিগোষ্ঠীর দেশ হলেও সরকার বিভাজন সৃষ্টি করে ফায়দা লুটছে বলে মন্তব্য করেন গণসংহতির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার। তিনি বলেন, এই দেশ যাতে সবার হয়, তার জন্য, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করতে হবে।

সমাবেশে অন্য বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকার সীমাহীন দুর্নীতি ও টাকা পাচার করে দেশের রিজার্ভ পর্যন্ত খেয়ে ফেলেছে। তথাকথিত উন্নয়নের নামে নদী, পাহাড়, বন, জলাশয় দখল করে প্রকৃতিবিনাশী প্রকল্প করছে। এমপি, মন্ত্রী, দলীয় নেতা ও সরকারের ঘনিষ্ঠজনেরা অপরাধ করলেও তাঁদের কোনো বিচার হয় না।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেওয়ান আবদুর রশিদ, হাসান মারুফ, মনির উদ্দীন প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন গণসংহতির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জুলহাসনাইন।