ইসলামি মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়তে ৬ কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিয়ে মামুনুল হকের দলের ২২ দফা ইশতেহার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ইশতেহার ঘোষণা করেছে। ২২ দফার এই ইশতেহারে ছয়টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে দলটি।
আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির আমির মামুনুল হক।
ইশতেহারের অগ্রাধিকারমূলক ছয়টি কর্মসূচি হলো—সুষম উন্নয়ন ও নাগরিক জীবনের মৈলিক অধিকার; সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা; শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তা; স্বাধীন, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি; সর্বজনীন, ঐক্যবদ্ধ ও নৈতিক শিক্ষাব্যবস্থা; কর্মসংস্থান ও তরুণদের জন্য অঙ্গীকার।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বলছে, এই ছয়টি বিষয় একটি অপরটির পরিপূরক। তারা বিশ্বাস করে, এই সমন্বিত কর্মসূচিগুলো একটি ন্যায়ভিত্তিক, আত্মমর্যাদাশীল ও ইসলামি মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ার বাস্তব পথ।
এবার দলের ২৮ জন প্রার্থী নির্বাচন করছেন বলে জানায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটি বলছে, দলীয় প্রার্থীরা বিজয়ী হলে তাঁরা ছয়টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করবেন।
ইশতেহারে অন্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—রাষ্ট্র পরিচালনায় কুরআন ও সুন্নাহ সর্বোচ্চ নির্দেশ হিসেবে থাকবে। কাদিয়ানি ও আহমদিয়া সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা হবে। সাহাবায়ে কেরামকে রাষ্ট্রীয় নীতির ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হবে। সুদমুক্ত ইসলামি অর্থনীতি চালু করা হবে। সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা সর্বজনীন জাতীয় সিলেবাসের অধীন পরিচালিত হবে, যেখানে কুরআন–হাদিসভিত্তিক নৈতিক শিক্ষা এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইংরেজি ও আইটির সমান গুরুত্ব থাকবে। কওমি মাদ্রাসার উন্নয়নে স্বায়ত্তশাসিত মঞ্জুরি কমিশন গঠন করা হবে। সব নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। কৃষিপণ্য সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তাপর্যায়ে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সহজতর করা হবে, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সব নাগরিকের জন্য মানসম্পন্ন, সহজলভ্য ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।
ইশতেহারে আরও রয়েছে—সাংবাদিক হত্যার দ্রুত বিচার, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি বন্ধ করা হবে। প্রবাসীদের জন্য বিনা সুদে বিশেষ ঋণ সুবিধা চালুর পাশাপাশি বিমানবন্দরসহ সব পর্যায়ে হয়রানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে। চাঁদাবাজি বন্ধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান পরিচালনা করা হবে। ঘুষ, দুর্নীতি ও অপচয়কে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। টেন্ডারবাজি, ক্যাডার বাহিনী ও সন্ত্রাসী রাজনীতি রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। গুম–খুন–অপহরণ বন্ধে বিশেষ পর্যবেক্ষণ সেল ও দক্ষ তদন্ত ইউনিট গঠন করা হবে। ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমির ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ইউসুফ আশরাফ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির কুরবান আলী, যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।