পল্টনে বোমা হামলার বার্ষিকীতে সিপিবির কর্মসূচি, নেপথ্যের হোতাদের বিচার দাবি
নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবি নিয়েই পল্টনে নিজেদের সমাবেশে ২৫ বছর আগের বোমা হামলার বার্ষিকী পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলায় পাঁচজন নিহত হন, আহত হন অনেকে। এই হামলার বার্ষিকীতে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে মঙ্গলবার কর্মসূচি নিয়েছে দলটি।
সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন আজ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ওই হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি এর নেপথ্যের হোতাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
২০০১ সালের ওই বোমা হামলায় খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার সিপিবি নেতা হিমাংশু মণ্ডল, সিপিবির খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার নেতা ও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শ্রমিকনেতা আবদুল মজিদ, ঢাকার ডেমরা থানার লতিফ বাওয়ানি জুট মিলের শ্রমিকনেতা আবুল হাসেম এবং মাদারীপুরের মোক্তার হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস রায় আহত হয়ে ঢাকা বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি মারা যান। বোমা হামলায় শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
হামলার পর সিপিবির তৎকালীন সভাপতি মনজুরুল আহসান খান একটি মামলা করেন। ১৯ বছর পর ২০২০ সালে বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ে জঙ্গি গোষ্ঠীকে এ হামলার জন্য দায়ী করা হয়। রায়ে ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
এ বিচারে হামলার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করা যায়নি বলে অভিযোগ করে আসছেন সিপিবির নেতারা। বিবৃতিতে সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক ক্বাফী রতন বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার, নেপথ্যের হোতাদের চিহ্নিত করা হয়নি। তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।
বিবৃতিতে বলা হয়, হত্যা-হামলা-মামলা–নির্যাতন করে কমিউনিস্টদের আন্দোলন দমানো যায়নি এবং ভবিষ্যতেও যাবে না। শহীদদের স্বপ্নের শোষণমুক্ত সমাজ-সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেই তাঁদের প্রতি যথাযথ সম্মান জানানো হবে।
কর্মসূচি
বোমা হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঢাকার পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুক্তি ভবনের সামনে নির্মিত অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে। সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র, যুব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা এ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।