সিটি করপোরেশন নির্বাচন
আরও ৩ সিটিতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত, দুই সিটিতে চলছে যাচাই-বাছাই
আরও তিনটি সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করেছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এর ফলে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে ১১টিতে প্রার্থী ঠিক করেছে দলটি। এর আগে গত জুনে আট সিটি করপোরেশনে প্রার্থী ঠিক করেছিল জামায়াত। বাকি দুই সিটিতে এখনো প্রার্থী যাচাই–বাছাই চলছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
গত ১১ আগস্ট জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে মনোনীত করা হয়। তিনি রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির।
৪ সেপ্টেম্বর সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির নূরুল ইসলাম বাবুলের নাম ঘোষণা করা হয়। সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত এক শিক্ষাশিবিরের সমাপনী দিনে দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এ ঘোষণা দেন।
এ ছাড়া প্রায় দুই মাস আগে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারকে চূড়ান্ত করা হয়। শহীদুল্লাহ কায়সার এ তথ্য জানিয়ে আজ শনিবার বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ময়মনসিংহ সফরে এসে শুরা বৈঠক ডেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করেন।
এর আগে গত ২২ জুন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে ৮ সিটি করপোরেশনের প্রার্থী প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়।
জামায়াত সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী করা হচ্ছে দলের মহানগর উত্তর শাখার আমির সেলিম উদ্দিনকে এবং ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম)।
প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত হওয়া অন্য প্রার্থীরা হলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, গাজীপুরে তোকাত গাজী উসমান পাশা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, বরিশালে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, রংপুরে মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খান, খুলনায় মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং নারায়ণগঞ্জে মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ আবদুল জব্বার।
জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, ১১ সিটিতে প্রার্থী প্রাথমিকভাবে ঠিক করা হলেও সেটি চূড়ান্ত নয়। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিশে শুরায় এই তালিকা চূড়ান্ত করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয়ভাবে ১১ সিটি করেপারেশনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা আসার আগে কোনো প্রার্থীই চূড়ান্ত নয়।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একসঙ্গে লড়লেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্যভুক্ত দলগুলো আলাদাভাবে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে কোনো এলাকায় শরিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে একক প্রার্থী দিলে কেন্দ্র থেকে বাধা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে এসব সূত্র।
দুই সিটিতে চলছে যাচাই–বাছাই
১১ সিটিতে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও কুমিল্লা ও নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। এসব পদে বেশ কয়েকজন প্রার্থী আলোচনায় আছেন। তাঁদের বিষয়ে জামায়াত আরও পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।
কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, জামায়াতের শ্রমিক সংগঠন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া এবং মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মোসলেহ উদ্দিনের নাম শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে বগুড়া সিটি করপোরেশনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সরকারি আজিজুল হক কলেজের সাবেক জিএস আ খ ম আব্দুল মালেক ও শহর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমান সোহেলের নাম আলোচনায় আছে।
জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রথম আলোকে বলেন, কুমিল্লা ও বগুড়া সিটিতে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি। স্থানীয় জামায়াতের পক্ষ থেকে কয়েকজনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তাঁদের বিষয়ে যাচাই–বাছাই চলছে। দলের আগামী নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। ওই বৈঠক আগামী মাসে হতে পারে বলে জানান তিনি।