১১ দলের নির্বাচনী ঐক্যকে ‘ঐতিহাসিক যাত্রা’ বললেন নাহিদ ইসলাম

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সেছবি: প্রথম আলো

জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ঐক্যে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই সমঝোতা সম্পর্কে বলেছেন, ‘এটা একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত, ঐতিহাসিক যাত্রা। এটা যেমন নির্বাচনী সমঝোতা, একই সঙ্গে এর রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।’

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। জামায়াতসহ ১১ দলের নির্বাচনী ঐক্যের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার জন্য এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ২৫৩ আসনের প্রার্থিতা নিয়ে সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হয়। এই জোট থেকে ৩০টি আসনে নির্বাচন করতে যাচ্ছে এনসিপি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দলের আসনের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমরা উপস্থিত হয়েছি। যেখানে সংস্কার ও বাংলাদেশের আজাদির পক্ষে থাকা এবং বৈষম্য ও দুর্নীতিবিরোধী অনেকগুলো দল একত্রে একটি প্ল্যাটফর্মে এসেছি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১০ দলের নেতারা আসন সমঝোতার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে
ছবি: প্রথম আলো

এই নির্বাচনী ঐক্যকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত ও ঐতিহাসিক যাত্রা’ মন্তব্য করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পরে আমরা যে আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে চাইছি, (তা বাস্তবায়নে) আসন্ন নির্বাচনে এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আমাদের উৎরাতে হবে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ; মহান মুক্তিযুদ্ধের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ এবং আমাদের ১৯৪৭ সালের আজাদির লড়াই—সব ঐতিহাসিক লড়াইকে ধারণ করে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। সারা বাংলাদেশের সব আসনে আমাদের কোনো দলের প্রার্থী থাকবে না। আজকের ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবেই তাঁরা বিবেচিত হবেন।’

নির্বাচনী ঐক্যের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে করমর্দন করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে
ছবি: প্রথম আলো

সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। মুখ্য বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এছাড়া এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বক্তব্য দেন। ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন।

মঞ্চে ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির সরওয়ার কামাল আজিজী, বিডিপির সভাপতি এ কে এম আনোয়ারুল হক, জাগপার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ। তবে ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেউ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না।