ফ্যাসিবাদী আমলের মিথ্যা ‘দুর্নীতির বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন’ বয়ান নতুন করে ছড়ানো হচ্ছে: বিএনপি

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীনছবি: প্রথম আলো

ফ্যাসিবাদী আমলের পুরোনো মিথ্যা ও প্রতারণামূলক ‘দুর্নীতির বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন’ বয়ান নতুন করে প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচারের দায়িত্ব নিয়েছেন।

আজ বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমীন এ কথা বলেন। রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা অফিসে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মাহদী আমীন বলেন, জাতীয়ভাবে প্রমাণিত সত্য হলো বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে দেশে দুর্নীতির হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। তিনি বলেন, ২০০১ সালের অক্টোবরে বিএনপি সরকার গঠনের সময় একটি আন্তর্জাতিক সূচকে দুর্নীতিতে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ০.৪, যা আগের সরকারের সময়কার দুর্নীতির প্রতিফলন। পরবর্তী সময়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি এবং সুশাসনের কারণে ২০০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার সময় সেই স্কোর বেড়ে ২.০-এ উন্নীত হয়।

মাহদী আমীন আরও বলেন, যে রাজনৈতিক দলটি এখন দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে, তারা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারের অংশ ছিল। সে সময় তাদের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ছিলেন। কিন্তু তখন তারা দুর্নীতির বিষয়ে কোনো আপত্তি বা মন্তব্য করেনি। বর্তমানে নির্বাচনী মাঠে এসে একই দল ফ্যাসিবাদী প্রোপাগান্ডার ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে, যা রাজনৈতিক দ্বিচারিতার শামিল।

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে মাহদী আমীন বলেন, নির্বাচন কমিশন ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের বিষয়ে যে সতর্কতা জারি করেছে, বিএনপি সেটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তিনি বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে এনআইডি সংগ্রহ, চাঁদা বা উপহার দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করছে। জান্নাতের প্রলোভন দেখানো, কোরআন শরিফে শপথ করানো এবং বিকাশে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। মাহদী আমীনের ভাষায়, যারা নিজেরাই টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে, তারাই আবার দুর্নীতির গল্প শোনাচ্ছে—এটি তাদের তথাকথিত সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বগুড়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার ঘোষণা প্রসঙ্গে মাহদী আমীন বলেন, এই দুটি সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনুমোদিত এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বিদ্যমান সিদ্ধান্তকে নতুন প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপন করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় ধানের শীষের পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়ার কারণে এক মসজিদের মুয়াজ্জিনকে চাকরি থেকে অব্যাহতির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাঁকে পুনর্বহালের দাবি জানান মাহদী আমীন। সিলেটে এক প্রার্থীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদ সদস্য প্রার্থীর অনুমতি ছাড়া পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারবে না, এ ধরনের বক্তব্য অসাংবিধানিক ও কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।