জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে প্রথম থেকে নাটক করে পরিকল্পিতভাবে দাম বৃদ্ধি: নাহিদ ইসলাম
জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার প্রথম থেকে পুরোপুরি নাটক করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘একটা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, মানুষের একটা ভোগান্তি তৈরি করে তারপর তেলের দামটা বৃদ্ধি করা হলো। পুরোটাই পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। সিন্ডিকেটরা এটা করেছে। সরকারের প্রশ্রয় বা অংশগ্রহণ না থাকলে এটা আসলে সম্ভব হতো না।’
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। এ সংবাদ সম্মেলনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৪৪ নেতা-কর্মী এনসিপিতে যোগ দেন। তাঁদের ফুল দিয়ে বরণ করেন নেন নাহিদসহ এনসিপির নেতারা।
যোগদান পর্ব শেষে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে সরকার প্রথম থেকে পুরোপুরি একটা নাটক করেছে। সরকার বারবার বলেছে, তেলের মজুত নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা নেই, পর্যাপ্ত তেল মজুত আছে। কিন্তু তেলসংকটের কারণে দেখিয়ে বার কাউন্সিলের নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হলো এবং তেলের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন।
নাহিদ বলেন, ‘একটা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, মানুষের একটা ভোগান্তি তৈরি করে তারপর তেলের দামটা বৃদ্ধি করা হলো। দাম বেশি হলেও মানুষ তেল কিনতে আগ্রহী—এ রকম একটা মনস্তত্ত্ব বা পরিবেশ তৈরি করে দামটা বৃদ্ধি করা হলো। পুরোটাই পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। সিন্ডিকেটরা এটা করেছে। সরকারের প্রশ্রয় বা অংশগ্রহণ না থাকলে এটা আসলে সম্ভব হতো না। জনগণের ভোগান্তি তৈরি করার কোনো প্রয়োজন ছিল না।’
এখন সম্পূর্ণ আগের বন্দোবস্তে দেশ চলছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দেশের সবগুলো প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করা হচ্ছে। দেশের বিচারব্যবস্থা থেকে শুরু করে সব জায়গায় আমরা যে সংস্কারের কথা বলেছি, ঐকমত্য কমিশন ও গণভোটের মাধ্যমে যে সংস্কারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, বিএনপি সরকার সব সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। শুধু আওয়ামী লীগের জায়গায় একটা বিএনপি সরকার প্রতিস্থাপিত হয়েছে এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু আমরা কোনো দল বা ব্যক্তির নয়, ক্ষমতাকাঠামোর পরিবর্তন চাই।’
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ বলেন, সরকারের ভেতরে স্বচ্ছতার অভাব ব্যাপকভাবে। এই সরকার আগের সরকারের মতোই আসলে বিভিন্ন ইস্যুতে রিঅ্যাক্ট (প্রতিক্রিয়া দেখানো) করছে, কথা বলছে, রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।
তাঁরা একটি অ্যাকাউন্টেবল গভর্মেন্ট (জবাবদিহিমূলক সরকার) চেয়েছিলেন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সেই ধরনের কোনো অ্যাকাউন্টেবিলিটি (জবাবদিহি) তারা নিশ্চিত করছে না। চিফ হুইপের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক পোস্ট শেয়ার করার কারণে মানুষ গ্রেপ্তার হয়ে যাচ্ছে, বাক্স্বাধীনতা হরণ হচ্ছে।’
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও সরকার সামাল দিতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। এ প্রসঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের পর বাংলাদেশের দিক থেকে ইরান দূতাবাসের সঙ্গে এনগেজমেন্ট (যুক্ততা) না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার কোনো ধরনের শোক জানায়নি। ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত এ জন্য আক্ষেপ করেছেন। বর্তমান সরকার কোনো ভারসাম্যমূলক কূটনীতি গ্রহণ করছে বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে না। ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, দেশের পরিস্থিতি—সবকিছু মিলিয়ে সরকারকে ভুগতে হবে।’
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে খারাপ হচ্ছে বলে মনে করেন নাহিদ ইসলাম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেই জায়গায় আমরা বলেছিলাম, জাতীয় ঐক্যের জায়গাটা যাতে আমাদের অটুট থাকে। একটা রাজনৈতিক সমঝোতার মধ্য দিয়েই এই সরকার কাজ করতে পারবে, সফল হবে বলে আমরা মনে করি। কিন্তু সমঝোতা সরকারই নষ্ট করেছে, প্রথম দিনই যখন সে গণভোটকে অস্বীকার করেছে। গণভোটকে অস্বীকার করলে আমাদের পক্ষেও সুযোগ নেই সরকারের সঙ্গে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করার।’
এখন সম্পূর্ণ আগের বন্দোবস্তে দেশ চলছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দেশের সবগুলো প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করা হচ্ছে। দেশের বিচারব্যবস্থা থেকে শুরু করে সব জায়গায় আমরা যে সংস্কারের কথা বলেছি, ঐকমত্য কমিশন ও গণভোটের মাধ্যমে যে সংস্কারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, বিএনপি সরকার সব সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। শুধু আওয়ামী লীগের জায়গায় একটা বিএনপি সরকার প্রতিস্থাপিত হয়েছে এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু আমরা কোনো দল বা ব্যক্তির নয়, ক্ষমতাকাঠামোর পরিবর্তন চাই।’
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন। দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।