ঋণখেলাপি-দ্বৈত নাগরিকদের পার করার চেষ্টা করলে ‘অ্যাকশন’

আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াফাইল ছবি: প্রথম আলো

আগামীকাল রোববার প্রার্থিতা–সংক্রান্ত আপিল শুনানির শেষ দিনটিকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য ‘রেডলাইন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল ইসি পক্ষপাত করে বা কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের পার করে দেওয়ার চেষ্টা করলে, আমরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাব।’

আজ শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। নির্বাচনী আপিল শুনানিসহ সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনকে ক্রিটিক্যালি অবজার্ভ (নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ) করছি। তারা কী ধরনের ব্যবস্থা নেয় কিংবা সামনের দিনে নিচ্ছে, সেটা আমরা অবজার্ভ করছি। আমরা মনে করি, আগামীকালের দিনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু আগামীকাল আপিল শুনানির শেষ দিন। আগামীকাল তাদের অবস্থান ও কার্যক্রম দেখে আমরা আমাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা মনে করি, আগামীকাল হচ্ছে রেডলাইন, নির্বাচন কমিশনের জন্য। যদি তারা সেই রেডলাইনটায় নিরপেক্ষতা দেখিয়ে আরপিও এবং সংবিধানকে মান্য করে সুষ্ঠুভাবে অতিক্রম করতে পারে, তাহলে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। যদি তারা সেখানে ভুল করে এবং পক্ষপাত বা কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের পার করে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে আমরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাব।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, তাঁরা কোনোভাবেই একটা যাচ্ছেতাই নির্বাচন করার সুযোগ দেবেন না। যেনতেন নির্বাচন করার চেয়ে প্রয়োজনে এই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে কিছুদিন দেরি করে হলেও একটা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করাটাই থাকবে তাঁদের মূল অগ্রাধিকার।

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ‘কোনো দ্বৈত নাগরিক, কোনো ঋণখেলাপিকে আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে দেব না। এর জন্য সব উপায়ে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। সেটা আইনি লড়াই হোক, রাজপথের লড়াই হোক কিংবা সর্বশেষ প্রয়োজন হলে আমরা সেই আসনে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’

নির্বাচন কমিশনকে অনেক সময় ও সুযোগ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আজকে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে এবং আগামীকাল আবার অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়ার যে কথাগুলো আমরা শুনেছি, তার পরে আমরা তাদের আর কোনো ধরনের সুযোগ দেব না। আগামীকাল যদি আমরা দেখি যে কোনো ঋণখেলাপি, কোনো দ্বৈত নাগরিকত্বধারী কেউ নির্বাচন করার যোগ্যতা পাচ্ছেন, সেটা যে শর্ত বা ব্যাখ্যার মধ্য দিয়েই হোক, আমরা সেটার বিরুদ্ধে রাজপথে নামব। আইনি লড়াইও চালিয়ে যাব।’

এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই এই নির্বাচন কমিশনকে পূর্ববর্তী তিনটি কমিশনের মতো একটা দায়সারা ও একপক্ষীয় নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ দেব না। এনসিপি তার জোট শরিকদের নিয়ে এ বিষয়টিকে খুব সিরিয়াসলি ডিল (গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা) করবে এবং এ ধরনের ঘটনা রুখে দিতে কাজ করবে।’

এনসিপি ও ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষ থেকে দেশবাসী, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে এই বার্তাটা দিতে চাই যে আপনারা কোনোভাবেই একটা দায়সারা বা সেটেলড (আপসরফার) নির্বাচন করে দিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার কথা ভাববেন না।’ নির্বাচন কমিশনারদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের চেয়ারগুলোতে পূর্বসূরি যারা বসেছিলেন, যাঁরা এভাবেই তিনটি নির্বাচনে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিলেন, তাঁদের পরিণতি ভুলে যাবেন না।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, সদস্য জহিরুল ইসলাম মূসা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।