কর্মীদের ‘অলসতায়’ প্রচার শুরু করতে দেরি

কর্মীদের ‘অলসতায়’ নির্বাচনী ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড টাঙাতে দেরি হয়ে গেছে ঢাকা-১০ আসনের এবি পার্টির প্রার্থী নাসরীন সুলতানার। অন্যদিকে প্রচার চালাতে গিয়ে কর্মীসংকটে পড়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী বহ্নি বেপারী।

ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১০ সংসদীয় আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন। তাঁদের মধ্যে যেসব প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যানার, ফেস্টুন কম দেখা যায়, তাঁদের একজন নাসরীন সুলতানা। তাঁর সঙ্গে গত শনিবার বিকেলে কথা বলেছে প্রথম আলো। তিনি বলেন, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানোর কাজ যাঁদের দায়িত্ব দিয়েছিলাম, তাঁরা অলসতা করায় সময়ক্ষেপণ হয়েছে।

প্রচারণায় পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করেন ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা এবি পার্টির প্রার্থী নাসরীন সুলতানা। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশন ছোট দলের প্রতি কঠোর আর বড় দলের প্রতি নরম। কেউ কেউ রঙিন বিলবোর্ড করলেও কমিশন কিছু করছে না।

কর্মীদের ‘অলসতা’ নাসরীন সুলতানাকে শুরুর দিকে প্রচারে কিছুটা পিছিয়ে দিলেও এ আসনের আরেক নারী প্রার্থী বহ্নি বেপারী ভিন্ন কারণে সংকটে পড়েছেন। লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করা জাতীয় পার্টির এই প্রার্থী বললেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় পার্টির কর্মীরা ভয়ে আছেন। যে কারণে প্রচারের ক্ষেত্রে কর্মীসংকটে পড়েছেন তিনি।

ঢাকা-১০ আসনের নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, সায়েন্স ল্যাব, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, ঝিগাতলা ও হাজারীবাগ এলাকা শনিবার ঘুরেছেন প্রথম আলোর এই প্রতিবেদক। এসব এলাকা ঘুরে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ব্যানার-ফেস্টুন বেশি দেখা গেছে। হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. আ. আউয়ালের ব্যানার-ফেস্টুন দেখা গেছে নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁটাবন ও সায়েন্স ল্যাব এলাকায়। এসব এলাকায় বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী আবু হানিফের ব্যানার-বিলবোর্ডও দেখা গেছে। তিনি হাতি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম। নির্বাচনী এলাকার প্রায় সব জায়গায় তাঁর ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ড রয়েছে। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীনের পক্ষে টাঙানো ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ডও চোখে পড়ার মতো।

এ আসনের অন্য চার প্রার্থী হলেন সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আনিছুর রহমান (ছড়ি প্রতীক), বাংলাদেশ লেবার পার্টির আবুল কালাম আজাদ (আনারস), আমজনতার দলের আব্দুল্লাহ আল হুসাইন (প্রজাপতি) ও জনতার দলের মো. জাকির হোসেন (কলম)।

সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী আনিছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রচারণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ জোগাড় করতে পারেননি। এখন পর্যন্ত তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় খরচ হয়েছে এক লাখ টাকার মতো। স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে এ টাকা দিয়েছেন।

আনিছুর জানান, প্রথমে ভেবেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। কিন্তু স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করতে হলে ১ শতাংশ ভোটারের সইসহ সমর্থন লাগে। এককভাবে এটা করা সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য ছিল। পরে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটে যোগ দিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। শুধু মানুষের সেবা করার জন্যই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন বলে জানান তিনি।

এ আসনে ভোটার নিয়ে নিজের মতো করে একটি ‘হিসাব’ করেছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা এই প্রার্থীর হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা-১০ আসনে ৩১ শতাংশ ভোটার বরিশাল অঞ্চলের। আর ২৭ শতাংশ ভোটার নোয়াখালী-কুমিল্লা অঞ্চলের।

এই প্রার্থী বলেন, তাঁর বাড়ি বরিশালে। যে কারণে বরিশাল অঞ্চলের মানুষ তাঁকে ভোট দেবেন বলে আশাবাদী তিনি।

যদিও ঢাকা-১০ আসনে প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের নির্বাচনী ব্যানার-ফেস্টুন চোখে পড়ে না। প্রচারের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য হলো, তিনি বরিশাল অঞ্চলের মানুষের কাছে বেশি যাচ্ছেন।