আবরার হত্যাকাণ্ড মানুষকে সম্প্রসারণবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ করেছে: রিজভী

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা রুহুল কবির রিজভী। ৭ অক্টোবর ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড দেশের মানুষকে আগ্রাসী ও সম্প্রসারণবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদের দমন-পীড়নের সময়ে দেশে একের পর এক আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ায় মানুষের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, আবরার হত্যাকাণ্ডের পর গোটা জাতির তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করেছে মানুষের ভেতরে প্রতিবাদের শক্তি তখনো বিদ্যমান ছিল। আবরারের একটি ফেসবুক পোস্টের প্রতিটি শব্দ ছিল দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে। সেই বক্তব্যের কারণে তাঁকে হত্যা করা হলেও তাঁর মৃত্যু মানুষের মধ্যে ভয় তৈরির পরিবর্তে প্রতিরোধের শক্তিকে আরও জোরালো করেছে।

আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের নিচতলায় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রিজভী এ কথা বলেন। শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এই সভার আয়োজন করে।

সভার আলোচ্য বিষয় ছিল—‘বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি: আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য; এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা সুরক্ষার অঙ্গীকার’।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল।

আলোচনা সভায় শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা মো. রহমত উল্লাহ বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন চুক্তি ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখাই ছিল আবরার ফাহাদের অপরাধ। এ কারণেই তাঁকে বুয়েটের হলে কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। আবরার হত্যার সাত বছর পার হয়ে গেলেও বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ড যে পূর্বপরিকল্পিত ছিল, তা আদালতের রায়েও উঠে এসেছে। কিন্তু আবরার হত্যার পর তৎকালীন বুয়েট কর্তৃপক্ষ জড়িত ছাত্রসংগঠনকে নিষিদ্ধ না করে পুরো ছাত্ররাজনীতিই নিষিদ্ধ করেছিল, যা ছিল ফ্যাসিবাদী আচরণের সুস্পষ্ট প্রতিফলন। আবরারসহ বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতার আত্মত্যাগই পরবর্তী সময়ে ২৪-এর জুলাই আন্দোলনের পথ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন।

এ ছাড়া সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর, ঢাকা কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।