কুমিল্লা–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ শনিবার তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করে ইসি। এতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা হারালেন তিনি। অন্যদিকে ইসিতে আপিল করে গতকাল প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন আরও ৪৩ জন।
এ নিয়ে আট দিনে মোট ৩৯৬ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আর বাছাইয়ে মনোনয়ন বৈধ হলেও আপিলে প্রার্থিতা হারিয়েছেন চারজন। আগামীকাল রোববার রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসির আপিল শুনানি শেষ হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর আগামী জাতীয় নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা জানা যাবে।
ইসি জানিয়েছে, আজ ১১২ আপিল আবেদন শুনানির জন্য ধার্য ছিল। এর মধ্যে ৪৫টি মঞ্জুর (২টি মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে) হয়েছে। ৩৭টি আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে ১৯টি আবেদন। আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ৯টি এবং আপিলকারী উপস্থিত না থাকায় ২টি আবেদনের শুনানি হয়নি।
কুমিল্লা–৪ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেছিলেন এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি আপিলে অভিযোগ করেছিলেন, বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। গতকাল বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে শুনানি শেষে হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে ইসি। এতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র অবৈধ হলো।
অন্যদিকে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীও হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেছিলেন। গতকাল তাঁর সে আপিল নামঞ্জুর হয়। ফলে হাসনাত আবদুল্লাহর প্রার্থিতা বহাল থাকছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবার মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে ৭২৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের (মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের) বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করার সুযোগ ছিল। নির্ধারিত সময়ে মোট ৬৪৫টি আপিল ইসিতে জমা পড়ে।