অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, অনেক উদ্ভট প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারে এসে সর্বপ্রথম তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বললেন, বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানাবেন। এখন বাংলাদেশটা আজিমপুরের কাছাকাছি। সুতরাং সিঙ্গাপুর বানাতে গিয়ে তিনি দেশকে আজিমপুর বানিয়ে ফেলছেন।

দেশকে আজিমপুর ‘বানানোর’ ব্যাখ্যা দিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘তাঁরা বলেন, ২৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, আর আমাদের প্রয়োজন ১১ হাজার মেগাওয়াট। এখন বলে তা–ও ঘাটতি। কুইক রেন্টালের নামে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটপাট করেছে, যে টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের দেশে গ্যাসের দাম বাড়ে, তারপরও দিতে পারে না, আবার প্রতিবেশী দেশে গ্যাস রপ্তানির চুক্তি করে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বসে আছেন। আমার দেশের মানুষ শুষ্ক মৌসুমে পানি পায় না, অথচ ফেনী নদীর পানি তাদেরকে খাবার জন্য আমাদেরকে দিতে হয়। বর্ষা মৌসুমে যখন তাদের পানি বাড়ে তখন স্লুইচগেটগুলো খুলে দিয়ে আমাদেরকে পানিতে মারে।’

এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একটিই পথ, তা হলো শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে বলে মনে করেন তিনি। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আজকে মূল দায়িত্ব হলো এই সরকারকে বিদায় দেওয়া। নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমরা কেন কথা বলব, আমরা নির্বাচনে যাব না। নির্বাচন কমিশন বলেছে, ভোটের দিন যদি কেউ তলোয়ার নিয়ে আসেন, তাহলে প্রতিপক্ষও পাল্টা রাইফেল নিয়ে নামবেন। আমরা যদি তলোয়ার আর রাইফেল হাতে নিই, তাহলে আমরা নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করব কেন? তার আগেই আপনাদেরকে বিদায় দেব। একটি সাংবিধানিক পদে থেকে সন্ত্রাসকে উসকে দেওয়া ও জনগণকে আতঙ্কে রাখা ভোটকেন্দ্র শূন্য রাখার একটি প্রয়াস মাত্র।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জিলানী। আর সঞ্চালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম এবং স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজ।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন