বিএনপির এই নেতা জানান, আজ ঢাকায় তাদের সমাবেশ থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে নতুন কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে। তবে নতুন কর্মসূচির ক্ষেত্রে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবির বিষয়ও থাকবে।

আওয়ামী লীগের পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি নানা অভিযোগ করে আসছিল। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একাধিকবার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি থেকে সরে আসার জন্য আওয়ামী লীগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদের কর্মসূচিকে বিএনপির পাল্টা নয় বলে বহুবার উল্লেখ করেছেন।

কিন্তু এখন বিএনপিও পাল্টা কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলছে। আওয়ামী লীগও সতর্ক পাহারার কথা বলে পাল্টা কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। যদিও দুই দলের নেতারাই মনে করেন, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি থেকে যেকোনো সময় উত্তেজনা ছড়াতে পারে।

বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, আজকের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়টিকে ‘উসকানি’ হিসেবে নিয়ে এর প্রতিবাদে কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপির পাল্টা যে কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে, তা যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। মূলত বিএনপি যাতে স্বাধীনভাবে কর্মসূচি পালন করে রাজপথ দখলে নেওয়ার মতো মনোভাব না দেখাতে পারে, এ জন্যই আওয়ামী লীগ কর্মসূচি দিয়ে থাকে।

বিএনপির কর্মসূচি যাতে একচেটিয়া গণমাধ্যমে স্থান না পেতে পারে, সেটিও একটি লক্ষ্য। অর্থাৎ গণমাধ্যমের প্রচারে ভাগ বসাতে আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচির কৌশল নিয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন বিএনপির কর্মসূচির দিন পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার ফলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চাঙাভাব আছে। শিগগিরই এই কৌশল থেকে সরে আসার সম্ভাবনা কম।

গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে ‘সতর্ক পাহারা’র নামে আওয়ামী লীগ পুরো রাজধানী মিছিল-সমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা করে। এরপর বিএনপি ও সমমনা দলগুলো যত কর্মসূচি পালন করেছে, এর প্রতিটিতে কোনো না কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে ছিল আওয়ামী লীগও। প্রথম কিছুদিন ‘সতর্ক পাহারা’ নামে রাজধানীর একাধিক স্থানে মিছিল-সমাবেশ করে। কিছুদিন আওয়ামী লীগের কর্মসূচির নাম পায় ‘শান্তি সমাবেশ’। এখন কোনো না কোনো দিবস ধরে বিরোধী দলের সঙ্গে একই দিনে সভা-সমাবেশ করছে আওয়ামী লীগ।

আ.লীগের কর্মসূচি

আওয়ামী লীগ এবার ঢাকায় পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান দিবস বেছে নিয়েছে। এ উপলক্ষে আজ বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের আয়োজন করেছে। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এটি অনুষ্ঠিত হবে বেলা তিনটায় বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি–সংলগ্ন মডেল স্কুল মাঠে। দুটি কর্মসূচিতেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামি বঙ্গবন্ধুসহ অন্য আসামিদের মুক্তি এবং পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের দাবিতে ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি কারফিউ ভঙ্গ করে সাধারণ মানুষ মিছিল বের করে। ১১ দফা দাবির মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান। দিবসটি ঐতিহাসিক গণ–অভ্যুত্থান দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

বিএনপির কর্মসূচি

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ১০ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বিএনপি। বিএনপি অন্যান্য দাবির সঙ্গে আজকের সমাবেশকে ১৯৭৫ সালের বাকশাল গঠনের দিনকে ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস উল্লেখ করে তা যুক্ত করা হয়েছে। এতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা থাকবেন। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরের সমাবেশগুলোতে অংশ নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের আলাদা আলাদা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে জেলা শহরগুলোতেও আজ সমাবেশ করবে দলটি।

এদিকে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে গণতন্ত্র মঞ্চ বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে। একই স্থানে বাম গণতান্ত্রিক ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ বেলা ১১টায়। প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী জোটের কর্মসূচি বেলা দুইটায়। ১২ দলীয় জোট বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কের সামনে বেলা তিনটায় বিক্ষোভ সমাবেশ করবে। এলডিপির কর্মসূচি বেলা দুইটায় কারওয়ানবাজারে দলটির কার্যালয়ের সামনে (এফডিসি গেটের কাছে)।