তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার সবার জন্যই পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছে। কিন্তু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরদের আসলে লজ্জা নেই। যদি থাকত, তাঁদের বলা উচিত ছিল—পদ্মা সেতুতে ওঠার আগে আমরা যে এ নিয়ে অপপ্রচার করেছি, সে জন্য জাতির কাছে, শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’

বিএনপির সরকার পতনের আন্দোলন নিয়ে করা প্রশ্নের জবাব দেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘বিএনপি প্রায় ১৪ বছর ধরে বলে আসছে সরকারের পতন ঘটাবে এবং পতন না ঘটিয়ে তারা ঘরে ফিরে যাবে না। অথচ প্রতিটি সমাবেশ শেষে তারা ঘরেই ফিরে যায়। কারণ, জনগণ তাদের কাছ থেকে সরে গেছে। তারা যতই আন্দোলন করছে, তাতে আমাদের একটা লাভ হচ্ছে—আমাদের কর্মীরা চাঙা হচ্ছে এবং অপশক্তি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের একটা গুণ হচ্ছে কেউ খোঁচা দিলে তখন কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়, উজ্জীবিত হয়। সেটির বহিঃপ্রকাশ আপনারা দেখেছেন যে যুবলীগের সম্মেলনে লাখ লাখ যুবকের সমাবেশ হয়েছে। তাদের মতো (বিএনপি) এত হাঁকডাক দেয়নি। আর এটি আওয়ামী লীগের নয়, যুবলীগের সমাবেশ, তাতেই লাখ লাখ যুবকের সমাবেশ ঘটেছে।

সরকারের বিরুদ্ধে মেগা প্রকল্প থেকে বিধবা ভাতা চুরি নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘বিএনপি টানা পাঁচবার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল। চারবার একক আর একবার যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন। যারা বিশ্বচোর, তারা সবকিছুতেই চুরির গন্ধ খোঁজে। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন তো হাওয়া ভবন বানিয়ে সব ব্যবসায় টোল বসিয়ে চাঁদাবাজি করেছিল। মির্জা ফখরুল ইসলাম কয়েক দিন আগে বলেছেন, সরকারের পতন হলে তারেক জিয়ার নেতৃত্বে জাতীয় সরকার হবে। অর্থাৎ হাওয়া ভবনের বিশ্বচোর আবার বাংলাদেশে আসবে এবং তার নেতৃত্বেই তারা (বিএনপি) জাতীয় সরকার গঠন করতে চায়। দেশের মানুষ এটা কখনো মেনে নেবে না।’

কপ-২৭: উন্নত বিশ্বের জলবায়ু সহায়তায় শুভংকরের ফাঁকি

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘উন্নত দেশগুলো বলেছে গত বছর তারা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার আন্তর্জাতিক তহবিলে ৮২ হাজার ডলার দিয়েছে। এর মধ্যে একটা বিরাট শুভংকরের ফাঁকি আছে। কারণ, বিশ্ব জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়ে প্যারিস চুক্তিতে স্পষ্ট লেখা আছে যে “ইন এডিশন টু প্রেজেন্ট ওডিএ (ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স-বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা)”। অর্থাৎ বর্তমানে উন্নত বিশ্ব যে সহায়তা দেয়, সেই অর্থ এই তহবিলে যুক্ত বলে গণ্য হবে না। জলবায়ু তহবিলে এর অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। কিন্তু তারা বর্তমান ওডিএর অর্থায়নকেও যুক্ত করে গত বছর উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ৮২ হাজার ডলার দিয়েছে বলে একটি হিসাব দাঁড় করিয়েছে। এর সঙ্গে আমরা একমত নই।’