এ ঘটনায় জনগণের প্রশ্ন জেগেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনগণের মধ্যে প্রশ্ন জেগেছে আবার সেই জঙ্গি নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে কি না। যাতে তারা আবার ক্ষমতায় টিকে থাকার আরও কিছু সময় পায়। আমরা বিশ্বাস করি এ রকম অশুভ চক্রান্ত থেকে সরকার সরে দাঁড়াবে।’

আজ সোমবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আরেকটা শুরু করেছিল অগ্নি-সন্ত্রাস। খুব একটা হালে পানি পায়নি। এটা খুব বেশি নেয়নি মিডিয়া। যে কারণে সেটাতে জোর দিতে পারছে না। কিছুদিন হলো আবার শুরু করেছে জঙ্গি। অভিজিৎ মার্কিন নাগরিক। বিষয়টিকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। কীভাবে আদালত থেকে জঙ্গি ছিনতাই হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের খেলাখেলিতে লাভ হবে না বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

সরকার জনগণের বিপরীতে

বিদ্যুতের দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব বলেন, কিছুদিন আগে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো। গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। পানির দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন আবার আরও এক দফা বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনকে তারা (সরকার) দুঃসহ করে তুলছে। বিদ্যুতের দাম যদি না কমানো হয়, তাহলে জনগণই তার প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, তারা সব সময় বলে জনগণের স্বার্থে কাজ করি। এ সরকার জনগণের বিপরীত জায়গায়, প্রতিপক্ষ হিসেবে গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, তারা (সরকার) এমন দুর্নীতি করেছে যে প্রতিটি খাত, প্রতিটি মন্ত্রণালয়, প্রতিটি অধিদপ্তর এখন কোনোমতেই আর সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এখন আইএমএফের লোন পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে জনগণের ওপর নির্যাতন করা শুরু করেছে।

তিন মাসে ৯৬ মামলা

গত ২২ আগস্ট থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ৯৬টি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এসব মামলায় ৪ হাজার ৪১২ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। ১০ হাজার ৬৬৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। ৪৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কোনো ঘটনাই ঘটেনি, এরপরও মামলা দেওয়া শুরু হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, নেতারা জানে না, কেউ কিছু বলতে পারছে না যে ঘটনা ঘটেছে কি না। অথচ মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। ঠিক ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে একইভাবে ‘গায়েবি মামলা’ দিয়ে তারা (সরকার) দেশকে অস্থির করে ফেলেছিল বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

আগামী ১০ ডিসেম্বরের সম্মেলন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করার কৌশল হিসেবে ইতিমধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তরে একটি মামলায় ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণে নবীউল্লাহ নবীসহ ২৪৫ জনের নামে তিনটি মামলা করা হয়েছে। ঢাকা জেলার সাভারে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক সংসদ সদস্য দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবুসহ ৩২ জনের নামে মামলা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মুন্সিগঞ্জে পুলিশ গুলি করে যুবদল নেতা শাওনকে হত্যা করেছে। উল্টো মুন্সিগঞ্জ জেলার ৬২ জনের নাম উল্লেখ করে দুটি মামলা করেছে। এর মধ্যে মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুজ্জামানকে পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। আজ (গতকাল) আবার তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। অথচ নাথিং হেপেনড (কিছুই ঘটেনি)।’

নাটোর জেলার গোপালপুরে বিএনপি অফিসে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে অফিস ভাঙচুর করে এবং অফিসে বোমা পেতে রেখে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নামে পুলিশ মামলা করেছে। আর রাজবাড়ী জেলায় গতকাল (রোববার) বোমা উদ্ধারের নামে ছাত্রদলের ৫ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির সমাবেশগুলো দেখে সরকার এত বেশি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে গেছে এখন তারা সব আইন রক্ষাকারী বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে দেশে একটা ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, এই সমাবেশগুলো যাতে সুষ্ঠুভাবে হতে না পারে, জনসমাগম যাতে কম হয়, সে জন্য তারা গায়েবি মামলা দিচ্ছে। বিনা কারণে রাতে ও দিনের বেলায় গিয়ে অভিযান চালাচ্ছে। গ্রেপ্তার করছে অথবা হয়রানি করছে।