গত সোমবার রাজধানীতে ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, ‘গত (জাতীয় সংসদ) নির্বাচনে আগের রাতেই পুলিশ ব্যালট বাক্স ভর্তি করেছিল বলে আমি শুনেছি। অন্য কোনো দেশে এমন দৃষ্টান্ত নেই। আমি আশা করব, এবার তেমন সুযোগ থাকবে না বা এমন ঘটনা ঘটবে না।’

সরকারের একাধিক মন্ত্রী ইতিমধ্যে জাপানের রাষ্ট্রদূতের এ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকির বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত। ওই বক্তব্যের জন্য জাপানের রাষ্ট্রদূতের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। গতকালই আবার নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান বলেন, বিদেশি কূটনীতিকেরা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কী বলতে পারেন, তা ভিয়েনা কনভেনশনে বলা আছে। সেই অনুযায়ী তাঁদের চলাফেরা করার কথা।

আজ মির্জা ফখরুল সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘ভিয়েনা কনভেশন এখন দেখেন। যখন আপনারা এভাবে মানুষ হত্যা করেন, যখন আপনারা গুম করে দেন, খুন করে দেন, দিনের ভোট রাতে করেন, ভোট না করে নিজেদেরকে সরকার ঘোষণা করে দেন, তখন কোথায় থাকে? বিষয়টা তো ওই জায়গায়।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আপনি যখন দুর্বল থাকেন, আপনার যখন পায়ের নিচে মাটি থাকে না, তখন আপনি এ ধরনের কথা বলবেন। এটার বাস্তবতাটা এটাই যে জাপানি রাষ্ট্রদূত যে কথা বলেছেন, চরম সত্য কথা বলেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসলে ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির চোখ খুলেছে। তারা এখন দেখতে পাচ্ছে, বাংলাদেশে কিছু হচ্ছে। বাংলাদেশ তো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়। স্পার্টেড পারসেল অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল গ্লোবাল কমিউনিটি—গোটা বিশ্বের একটা অংশ। এখানে ইচ্ছা করলেই...এখন আর সেই দুনিয়া নেই যে ইচ্ছা করলেই যা খুশি করা যেতে পারে, কেউ কিছু বলতে পারবে না। বলবেই তো মানুষ।’

সরকার ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিএনপি আন্তর্জাতিক মহলগুলোকে প্রভাবিত করছেন—এমন প্রশ্ন করলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তাহলে কী বুঝতে হবে? এটাই বুঝতে হবে, আমরা এখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছি, তাই না।’