সমাবেশে নুরুল হক বলেন, ‘বিএনপি নানাভাবে সভা-সমাবেশ করতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। সব ধরনের পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। যেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে মাসের পর মাস আন্দোলন করেছিলেন, এখন কেন তা দিতে চাচ্ছেন না।’

গত নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় নেতাদের তাঁর ওপর আস্থা রাখতে বলেছিলেন উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, ‘কিন্তু তিনি চলছেন দিল্লির প্রেসক্রিপশনে। এ দেশ দিল্লির প্রেসক্রিপশনে চলবে না। এ দেশ চলবে এ দেশের জনগণের ইচ্ছায়। আমরা দিল্লিকে বলে দিতে চাই, আপনারা জনগণের পক্ষে থাকবেন নাকি ফ্যাসিবাদী সরকারের পক্ষে থাকবেন, তা স্পষ্ট করতে হবে।’

নুরুল হক বলেন, ‘আমাদের স্পষ্ট কথা, হামলার পর যেসব ছাত্রকে আটক করা হয়েছে, তাঁদের মুক্তি দিতে হবে। হামলা করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।’

সমাবেশে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘ছাত্রদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে বদমায়েশির জন্য। আরও বড় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। একসঙ্গে লড়াই চলবে আর এই আন্দোলন চলবে, যতক্ষণ নতুন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র না হয়।’

সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি বলেন, ‘এই দেশ বহু বছর থাকবে। সেখানে আওয়ামী লীগও থাকবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ যা করছে, সব সীমা অতিক্রম করেছে। একদিন আপনারা ক্ষমতার বাইরে থাকবেন। তাই সীমা অতিক্রম করবেন না।’

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ করে জুনায়েদ সাকি বলেন, ‘যুদ্ধেরও একটা নিয়ম থাকে। কিন্তু আপনারা তা মানছেন না। চিকিৎসা নিতে যাওয়া ছাত্রদের গুন্ডা বাহিনী দিয়ে হামলা করে সেখান থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আবার আদালতে তাঁদের জামিন হচ্ছে না। এভাবে গুন্ডা বাহিনী আর প্রশাসন দিয়ে আন্দোলন দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসে এখনই ক্ষমতা ছাড়ুন। তাহলে সম্মানজনক বিদায় পাবেন।’

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের পরিবর্তন চাই। এই বাংলাদেশের পরিবর্তন দেবে তরুণ প্রজন্ম। তরুণ সম্প্রদায়কে গ্রেপ্তার, নির্যাতন করে কোনো শাসকগোষ্ঠী দেশে টিকতে পারে নাই।’

এনডিপি চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনকে আমরা বলব, আপনারা সত্যকে কি ঢেকে রাখতে চান নাকি সামনে আনতে চান। বর্তমান সরকার দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।’

নৈতিক সমাজের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) আমসা আমিন বলেন, ‘সংবিধান বদলাতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের নির্বাচনব্যবস্থা নিরপেক্ষ করতে হবে। এখন যে অবস্থা, তাতে কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। জাতিসংঘকে আমরা বলতে চাই, আন্তর্জাতিক একটা ব্যবস্থার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন করে ভালো সরকার গড়ে যাবেন।’

গ্রেপ্তার ছাত্রদের ছেড়ে না দিলে এই আন্দোলন গণ–অভ্যুত্থানে রূপ নেবে বলে সমাবেশে মন্তব্য করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, ‘যুবলীগের মহাসমাবেশে কী হয়েছে? পুলিশ ও গোয়েন্দাদের একটা মহাসমাবেশে পরিণত হয়েছে। এটা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরাজয়।’

সমাবেশে গণ অধিকার পরিষদ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।