প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে এ সরকারের দেউলিয়াত্ব প্রমাণিত হয়েছে। তারেক রহমানের প্রতি কেন এত রাগ, তাঁকে এত ভয় কেন, এমন প্রশ্ন তুলে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘একটাই কারণ, তারেক রহমান বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি এ দেশে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে, দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায়, অর্থনীতি মেরামত করার সংগ্রামে বিএনপি তথা বাংলাদেশের জনগণকে নির্দেশনা দিচ্ছেন। তাই তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে আজকে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। এই আওয়ামী লীগ সরকার পুরো জিয়া পরিবারকেই ভয় পায়।’

এই সরকার গায়ের জোরে প্রতিষ্ঠিত, এমন মন্তব্য করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, রাতে ভোট ডাকাতি করে যারা সরকারে এসেছে, ভোট ছাড়া পার্লামেন্ট গঠন করে যারা সরকারে আছে, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। শুধু তাই নয়, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালে যখন এই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল, তখন গণতন্ত্র হত্যা করে তারা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। আবার এই সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকার জন্য গণতন্ত্রকে সর্বত্র ধ্বংস করে দিয়েছে, মানুষের ভোটের অধিকার নেই।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, আজকে যখন সারা দেশের মানুষ ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন করছে, তখন গায়ের জোরের সরকার ভয়ে আতঙ্কিত। সে কারণে বিএনপির সমাবেশগুলোকে দুর্বল করার জন্য সরকার অঘোষিত হরতাল ঘোষণা করে, পরিবহন ধর্মঘট সৃষ্টি করছে। কিন্তু সব জায়গায় স্মরণকালে সর্ববৃহৎ সমাবেশ হয়েছে। সামনেও যত বাধাবিপত্তি সৃষ্টি করা হোক না কেন, সব সমাবেশই সফল হবে। তিনি সরকারের বিরুদ্ধে মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি, বিদেশে টাকা পাচার করে অর্থনীতি ধ্বংসের অভিযোগ করেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আজকে আমাদের সামনে একটাই টার্গেট, এই স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করতে হবে। এর ফয়সালা হবে রাজপথে। খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র মুক্তি পাবে না। তাই গণ–আন্দোলন করে এই সরকারকে আমরা বিদায় করব।’

জঙ্গি ও সাবেক আইজিপি শহিদুল ইসলামের বই

সমাবেশে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বক্তব্যে সম্প্রতি প্রকাশিত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহিদুল ইসলামের লেখা একটি বইয়ের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশের (সাবেক) আইজি শহিদুল ইসলাম সম্প্রতি একটা বই লিখেছেন। বইয়ে বলেছেন যে আমরা অনেক জঙ্গি দমন করেছি। শ্যামলীর ওখানে জঙ্গি দমন করার পরে, সেই জঙ্গিদের ধরার পরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেলাম। প্রধানমন্ত্রী বললেন যে এত তাড়াতাড়ি নাটক করার দরকার ছিল কী? আইজি শহিদুল ইসলাম নিজে তাঁর বইয়ে এ কথা লিখেছেন।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এই জঙ্গি নিয়ে অনেক মানুষের সন্দেহ ছিল। আমরা বলেছিলাম যে এইটা সরকারের কোনো পাতানো নাটক কি না। প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাঁর আইজিকে বলছেন যে এত তাড়াতাড়ি নাটক করার দরকার ছিল? তো আইজি সাহেব তো আওয়ামী লীগের খাস লোক ছিলেন। শেখ হাসিনার কথায় অনেক জুলুম-নির্যাতন করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর। তাতে প্রমাণিত হয়, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রত্যেকে অবৈধভাবে গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রকে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছেন। আজকে তাঁর লোকেরাই সত্য কথাগুলো প্রকাশ করছে।’

মেয়র তাপসের সমালোচনা

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘৫ নভেম্বর বরিশালে বিএনপির বড় সমাবেশ। মেয়র তাপস (ফজলে নূর তাপস) সাহেব বলেছেন, ওখানে আমার মামাতো ভাই-ই যথেষ্ট বিএনপির জনসমাবেশ ঠেকাতে। আমি তাপস সাহেবকে বলি যে তাপস সাহেব, আপনি ব্যারিস্টারি পাস করে এসেছেন। কিন্তু আপনার কথা শুনলে মনে হয় কোনো গুন্ডার কথা, সন্ত্রাসীর কথা। আপনার মামাতো ভাই বরিশালের মেয়র। উনি গুন্ডা না, পান্ডা যে উনি বিএনপির একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ঠেকিয়ে দেবেন। আমার একটা কথা, এই শেখ পরিবারে কি একটা ভদ্রলোকও নেই?’

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম প্রমুখ।