খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ভিড়
কেউ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, কেউ পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া–মোনাজাত করছেন। কেউ কেউ আবার ভিড় ঠেলে সামনে এগোনোর চেষ্টা করছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ভিড়ে এমনই ছিল জিয়া উদ্যানে তাঁর সমাধিস্থলের চিত্র।
আজ শনিবার সকাল থেকেই সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ভিড় দেখা যায়। তবে বেলা তিনটার পর তা বাড়তে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপির নেতা–কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন।
বিকেল পাঁচটার একটু আগে মেয়েকে নিয়ে খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আসা নীলা মাহমুদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজকে আমরা এখানে এসেছি। কিন্তু এখানে অনেক ভিড়। এত ভিড়ের মধ্যে যে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছি, শুকরিয়া আল্লাহর কাছে। আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশত নসিব করেন।’
গণতন্ত্রের জন্য খালেদা জিয়ার সংগ্রামের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নীলা মাহমুদ বলেন, ‘তাঁর শোককে বাংলাদেশের মানুষ শক্তিতে রূপান্তর করুক এবং বিএনপি বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলুক, এটাই প্রত্যাশা।’
ভিড়ের কারণে সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনায় পড়েন শ্রদ্ধা জানাতে আসা নারীরা। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর পীরেরবাগ থেকে আসা ইয়াসমিন আরা অভিযোগের সুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাঁরা সামনে থেকে দেখতেছেন, তাঁরা অনেকক্ষণ ধরে দেখতেছেন। একটু দেখে সরে গেলে তো হয়। কিন্তু না, তাঁরা দাঁড়িয়েই থাকেন। ভিড়ের কারণে তো আমরা ভেতরে (সমাধি চত্বর) ঢুকে দেখতে পারতেছি না।’
নোয়াখালীর চাটখিল থেকে পরিবার নিয়ে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে এসেছেন ওসমান গনি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার নির্যাতনে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা নেত্রীর কবর দেখতে এসেছি, জিয়ারত করতে এসেছি।’
বিকেলে খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা–কর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপাসনের বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব পালন করা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
এরপর বিএনপির চেয়ারপারসনের কবরে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির ফিনল্যান্ড, ইতালি, গ্রিস, সুইজারল্যান্ড, লন্ডন মহানগর শাখার নেতা–কর্মীরা।
খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরদিন তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। তাঁকে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়।